ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে সাদা শাপলার বিল: প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 175

দিনাজপুরে সাদা শাপলার বিল: প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমামুদপুর গ্রামে রয়েছে এক অপরূপ জলাভূমি, যাকে সাদা শাপলার বিল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ বিলের জলভরা অংশে নৌকা ভেসে গেলে মনে হয় যেন ফুলের বাগানের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করছে। শান্ত জলের ওপর সাদা শাপলার সারি চোখকে আনন্দ দেয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসেন ছবি তোলার ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

বিলটির আয়তন প্রায় ৬ শত বিঘা এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত; পশ্চিম অংশের নাম আমরুল বিল, পূর্ব অংশের নাম কাললা বিল। বর্ষা মৌসুমে পানি ভরে গেলে বিল শাপলায় সেজে ওঠে, পানি কমলে কৃষকরা আমন ধান চাষ করেন। ধান কেটে পশ্চিম অংশে জন্মে আমরুল নামের আগাছা, পূর্ব অংশে জন্মে কাললা নামের হলদে মুথা জাতের আগাছা, এবং এ থেকেই দুটি অংশের নামকরণ।

শাপলার সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা মাছ ধরার আকর্ষণও পান। কই, মাগুর, টাকি, পুঁটিসহ নানা প্রজাতির মাছ ভোরে স্থানীয় জেলেরা ধরে বিক্রি করেন। বিলের মাঝখানে এক দ্বীপসদৃশ সমতলভূমি রয়েছে, যেখানে জেলেরা বাঁশ ও টিনের ছাউনি তৈরি করে মাছ সংরক্ষণ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা পর্যটকদের আড্ডার কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় শিশু-কিশোররাও এই বিল থেকে উপার্জন করছে। ১০ বছরের মুরাদ প্রতিদিন স্কুল শেষে নৌকা চালিয়ে দর্শনার্থীদের বিল ঘোরান। তিনি ভাড়া নেন ১০০ থেকে ২০০ টাকা, কেউ বেশি সময় থাকলে ৩০০ টাকা। তার ছোট্ট হাত যখন বৈঠা চালায়, মনে হয় বিল যেন তারই নিজস্ব ভুবন।

বিলের সৌন্দর্য নিয়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধতা অসীম। ঢাকার রাশেদুজ্জামান শাওন বলেন, “বিলের দক্ষিণ দিকে ভারতের সীমান্ত, মাঝখানে ছোট একটি জঙ্গল, চারপাশে অসংখ্য শাপলা ও শালুক; সব মিলিয়ে এক অসাধারণ দৃশ্য।”

স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বিলটি দিনাজপুরের বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তারও জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের পরিদর্শন ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

সাদা শাপলার বিল শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্র নয়, এটি স্থানীয়দের আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে। জেলে মাছ বিক্রি ও নৌকা চালিয়ে শিশু-কিশোরেরা উপার্জন করছে, দর্শনার্থীরা উপভোগ করছে স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে এই বিল দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এই জলাভূমি তাই দিনাজপুরের গর্ব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিনাজপুরে সাদা শাপলার বিল: প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য

সর্বশেষ আপডেট ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমামুদপুর গ্রামে রয়েছে এক অপরূপ জলাভূমি, যাকে সাদা শাপলার বিল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ বিলের জলভরা অংশে নৌকা ভেসে গেলে মনে হয় যেন ফুলের বাগানের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করছে। শান্ত জলের ওপর সাদা শাপলার সারি চোখকে আনন্দ দেয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসেন ছবি তোলার ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

বিলটির আয়তন প্রায় ৬ শত বিঘা এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত; পশ্চিম অংশের নাম আমরুল বিল, পূর্ব অংশের নাম কাললা বিল। বর্ষা মৌসুমে পানি ভরে গেলে বিল শাপলায় সেজে ওঠে, পানি কমলে কৃষকরা আমন ধান চাষ করেন। ধান কেটে পশ্চিম অংশে জন্মে আমরুল নামের আগাছা, পূর্ব অংশে জন্মে কাললা নামের হলদে মুথা জাতের আগাছা, এবং এ থেকেই দুটি অংশের নামকরণ।

শাপলার সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা মাছ ধরার আকর্ষণও পান। কই, মাগুর, টাকি, পুঁটিসহ নানা প্রজাতির মাছ ভোরে স্থানীয় জেলেরা ধরে বিক্রি করেন। বিলের মাঝখানে এক দ্বীপসদৃশ সমতলভূমি রয়েছে, যেখানে জেলেরা বাঁশ ও টিনের ছাউনি তৈরি করে মাছ সংরক্ষণ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা পর্যটকদের আড্ডার কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় শিশু-কিশোররাও এই বিল থেকে উপার্জন করছে। ১০ বছরের মুরাদ প্রতিদিন স্কুল শেষে নৌকা চালিয়ে দর্শনার্থীদের বিল ঘোরান। তিনি ভাড়া নেন ১০০ থেকে ২০০ টাকা, কেউ বেশি সময় থাকলে ৩০০ টাকা। তার ছোট্ট হাত যখন বৈঠা চালায়, মনে হয় বিল যেন তারই নিজস্ব ভুবন।

বিলের সৌন্দর্য নিয়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধতা অসীম। ঢাকার রাশেদুজ্জামান শাওন বলেন, “বিলের দক্ষিণ দিকে ভারতের সীমান্ত, মাঝখানে ছোট একটি জঙ্গল, চারপাশে অসংখ্য শাপলা ও শালুক; সব মিলিয়ে এক অসাধারণ দৃশ্য।”

স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বিলটি দিনাজপুরের বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তারও জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের পরিদর্শন ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

সাদা শাপলার বিল শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্র নয়, এটি স্থানীয়দের আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে। জেলে মাছ বিক্রি ও নৌকা চালিয়ে শিশু-কিশোরেরা উপার্জন করছে, দর্শনার্থীরা উপভোগ করছে স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে এই বিল দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এই জলাভূমি তাই দিনাজপুরের গর্ব।