ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থুথু ফেলা থেকে সংঘর্ষ: আগুনে পুড়ল সিটি ইউনিভার্সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 169

থুথু ফেলা থেকে সংঘর্ষ: আগুনে পুড়ল সিটি ইউনিভার্সিটি

সাভারের আশুলিয়ার খাগান এলাকায় মধ্যরাতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছয়জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোেক্টোরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল ওহাব গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করি। ঘটনাটি মীমাংসার দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু সিটি ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আরও কেউ আহত হয়েছে কি না তা তখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেখা গেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ ধরনের সহিংসতা নিন্দা করে লিখেছে—‘এটা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের আচরণ হতে পারে না। প্রতিবেশী দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঝগড়া, তর্ক বা বিবাদ হতে পারে; তবে হাজারে হাজারে গিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ধ্বংস করা, সম্পদ নষ্ট করা, আর মানুষকে আহত করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছে—‘কেউ জিতেনি; গায়ের জোর দেখিয়ে, জুলুম করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল বা বাস ধ্বংস করে কখনও জেতা যায় না। আল্লাহর ওয়াস্তে থামো, সবাই মিলে আগুন নেভাও, শান্ত করো, শান্ত হও।’

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

থুথু ফেলা থেকে সংঘর্ষ: আগুনে পুড়ল সিটি ইউনিভার্সিটি

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

সাভারের আশুলিয়ার খাগান এলাকায় মধ্যরাতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছয়জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোেক্টোরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল ওহাব গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করি। ঘটনাটি মীমাংসার দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু সিটি ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আরও কেউ আহত হয়েছে কি না তা তখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেখা গেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ ধরনের সহিংসতা নিন্দা করে লিখেছে—‘এটা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের আচরণ হতে পারে না। প্রতিবেশী দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঝগড়া, তর্ক বা বিবাদ হতে পারে; তবে হাজারে হাজারে গিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ধ্বংস করা, সম্পদ নষ্ট করা, আর মানুষকে আহত করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছে—‘কেউ জিতেনি; গায়ের জোর দেখিয়ে, জুলুম করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল বা বাস ধ্বংস করে কখনও জেতা যায় না। আল্লাহর ওয়াস্তে থামো, সবাই মিলে আগুন নেভাও, শান্ত করো, শান্ত হও।’

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।