ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন শ্রেণির মানুষকে পাসপোর্ট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 239

বিগত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিন শ্রেণির ব্যক্তির পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে ইস্যু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, দেশ ও বিদেশে পলাতক এবং ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আর পাসপোর্ট পাবেন না।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৪ মে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তিন শ্রেণির লোকের তালিকা সংগ্রহে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “গত বছরের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারের বিভিন্ন সহযোগী যারা আইনের চোখ এড়িয়ে দেশত্যাগ করেছেন এবং যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা বা তাদের পক্ষ থেকে এখন পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করা হচ্ছে বা ভবিষ্যতে করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদন অনুমোদন করা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের তালিকা এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে পলাতক ও ফৌজদারি মামলার আসামিদের তালিকা নিয়ে বিদেশি মিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলোকে পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে ইস্যু না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, যেহেতু স্থানীয়ভাবে অনেক সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের পরিচয় ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাই তালিকা প্রস্তুতে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তাদের মধ্যে কেউ যেন বিদেশে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে অনেকের পাসপোর্ট ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়ন বন্ধের এই উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তিন শ্রেণির মানুষকে পাসপোর্ট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

বিগত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিন শ্রেণির ব্যক্তির পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে ইস্যু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, দেশ ও বিদেশে পলাতক এবং ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আর পাসপোর্ট পাবেন না।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৪ মে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তিন শ্রেণির লোকের তালিকা সংগ্রহে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “গত বছরের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারের বিভিন্ন সহযোগী যারা আইনের চোখ এড়িয়ে দেশত্যাগ করেছেন এবং যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা বা তাদের পক্ষ থেকে এখন পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করা হচ্ছে বা ভবিষ্যতে করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদন অনুমোদন করা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের তালিকা এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে পলাতক ও ফৌজদারি মামলার আসামিদের তালিকা নিয়ে বিদেশি মিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলোকে পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে ইস্যু না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, যেহেতু স্থানীয়ভাবে অনেক সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের পরিচয় ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাই তালিকা প্রস্তুতে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তাদের মধ্যে কেউ যেন বিদেশে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে অনেকের পাসপোর্ট ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়ন বন্ধের এই উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।