ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে মুক্তি

তিন কোটি টাকার বিল তদবিরে দুই শিক্ষার্থী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 154

তিন কোটি টাকার বিল তদবিরে দুই শিক্ষার্থী আটক

ঝালকাঠিতে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিল তদবির করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। পরে পুলিশে সোপর্দ করার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী (২৫)। তারা বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে সদর থানা থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে মুক্তি পান।

পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি, যুবদল ও এনসিপি নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসির রুমে একাধিক পক্ষের স্বাক্ষরে একটি আপসনামা করা হয়।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটর শাওন খানের নামে তিন কোটি টাকার একটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড় করাতে এসেছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয়ে বিল তোলার বিষয়ে সিনিয়র প্রকৌশলীর রুমে গিয়ে তারা তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা বিএনপিপন্থী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

পরে ঠিকাদাররা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর জানান, কাজটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। প্রকৃত ঠিকাদারকে না এনে অন্য লোকজন নিয়ে এসে বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে সিরাজুল ইসলাম ও মেহেদী থানায় সাংবাদিকদের বলেন, তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু ঠিকাদার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

সন্ধ্যার পর থানায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মুবিন, বরিশাল জেলা এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর সংগঠক তুষার খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাঁদের মধ্যস্থতায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মর্মে লিখিত বিবৃতি দিয়ে সমঝোতা হয়।

পরে থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি ছিল নিছক ভুল বোঝাবুঝি, যা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে সমাধান হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল যে, দুই যুবক দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক তদবির করে আসছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে সমঝোতা ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে মুক্তি

তিন কোটি টাকার বিল তদবিরে দুই শিক্ষার্থী আটক

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

ঝালকাঠিতে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিল তদবির করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। পরে পুলিশে সোপর্দ করার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী (২৫)। তারা বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে সদর থানা থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে মুক্তি পান।

পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি, যুবদল ও এনসিপি নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসির রুমে একাধিক পক্ষের স্বাক্ষরে একটি আপসনামা করা হয়।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটর শাওন খানের নামে তিন কোটি টাকার একটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড় করাতে এসেছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয়ে বিল তোলার বিষয়ে সিনিয়র প্রকৌশলীর রুমে গিয়ে তারা তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা বিএনপিপন্থী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

পরে ঠিকাদাররা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর জানান, কাজটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। প্রকৃত ঠিকাদারকে না এনে অন্য লোকজন নিয়ে এসে বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে সিরাজুল ইসলাম ও মেহেদী থানায় সাংবাদিকদের বলেন, তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু ঠিকাদার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

সন্ধ্যার পর থানায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মুবিন, বরিশাল জেলা এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর সংগঠক তুষার খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাঁদের মধ্যস্থতায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মর্মে লিখিত বিবৃতি দিয়ে সমঝোতা হয়।

পরে থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি ছিল নিছক ভুল বোঝাবুঝি, যা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে সমাধান হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল যে, দুই যুবক দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক তদবির করে আসছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে সমঝোতা ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।