ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তালাক পেল জামায়াত, আলোচনায় এনসিপি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / 293

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি এখন কেবলমাত্র সেসব দলের সঙ্গে জোট গড়তে চায়, যারা রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। তার ভাষায়, “জামায়াতের সঙ্গে আর কোনো জোটের সম্ভাবনা দেখছি না। অতীতে কৌশলগত কারণে জোট হয়েছিল, এবার তেমন প্রয়োজন নেই।”

এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে। সময়ই বলে দেবে শেষ পর্যন্ত কারা জোটে থাকে।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান। বলেন, “অতিরিক্ত সময় নিলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শেষ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।”

সালাহউদ্দিন জানান, আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদনের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি আশাবাদী। তবে প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো বা বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও দলগুলো আলোচনা করছে।

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পিআর ব্যবস্থা উপযোগী নয়। এতে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বঞ্চিত হন এবং দুর্বল জোট সরকার গঠনের ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তার মতে, পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু ছোট দল অল্প ভোটে বেশি আসন পেলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়। “জনগণ সরাসরি পরিচিত প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়,”—বলেন সালাহউদ্দিন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ পিআর চায়, কেউ সংস্কার চায়, কেউ বিচার ছাড়া নির্বাচন মানবে না—সবই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই আমরা।”

আওয়ামী লীগের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং এক ধরনের ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাদের ইতিহাস গণতন্ত্রহীনতার ইতিহাস।”

সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ জোট গঠনের রূপরেখায় নতুন স্পষ্টতা এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, দীর্ঘ সময়ের মিত্র জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে তালাক দিয়েছে বিএনপি। এখন এনসিপিকে কাছে টানার আলোচনায় রয়েছে বিষয়টি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তালাক পেল জামায়াত, আলোচনায় এনসিপি

সর্বশেষ আপডেট ১০:২০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি এখন কেবলমাত্র সেসব দলের সঙ্গে জোট গড়তে চায়, যারা রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। তার ভাষায়, “জামায়াতের সঙ্গে আর কোনো জোটের সম্ভাবনা দেখছি না। অতীতে কৌশলগত কারণে জোট হয়েছিল, এবার তেমন প্রয়োজন নেই।”

এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে। সময়ই বলে দেবে শেষ পর্যন্ত কারা জোটে থাকে।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান। বলেন, “অতিরিক্ত সময় নিলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শেষ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।”

সালাহউদ্দিন জানান, আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদনের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি আশাবাদী। তবে প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো বা বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও দলগুলো আলোচনা করছে।

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পিআর ব্যবস্থা উপযোগী নয়। এতে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বঞ্চিত হন এবং দুর্বল জোট সরকার গঠনের ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তার মতে, পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু ছোট দল অল্প ভোটে বেশি আসন পেলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়। “জনগণ সরাসরি পরিচিত প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়,”—বলেন সালাহউদ্দিন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ পিআর চায়, কেউ সংস্কার চায়, কেউ বিচার ছাড়া নির্বাচন মানবে না—সবই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই আমরা।”

আওয়ামী লীগের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং এক ধরনের ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাদের ইতিহাস গণতন্ত্রহীনতার ইতিহাস।”

সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ জোট গঠনের রূপরেখায় নতুন স্পষ্টতা এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, দীর্ঘ সময়ের মিত্র জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে তালাক দিয়েছে বিএনপি। এখন এনসিপিকে কাছে টানার আলোচনায় রয়েছে বিষয়টি।