তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 34
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজনেরা।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)- এর উদ্যোগে আয়োজিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন- পরবর্তী করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে তারা এ দাবি জানান।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, তামাক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবহারের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই অর্জন ধরে রাখতে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগে ধূমপায়ীদের আবেদন নিষিদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই দায়িত্ব নিক না কেন, তাদের কাছে নাগরিক সমাজের স্পষ্ট দাবি থাকবে- এই অধ্যাদেশ যেন দ্রুত আইনে রূপান্তর করা হয়।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এটি আইনে রূপান্তরের জন্য তার বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরিত না হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটি আইনে পরিণত করা জরুরি।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের পিছিয়ে পড়া হবে। একই সঙ্গে তামাক শিল্পের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও প্রভাব মোকাবিলায় শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন উবিনীগের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে, যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। এই বাস্তবতায় অধ্যাদেশ ২০২৫ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও, আইনে রূপান্তর না হলে এর কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক ড. এম. এ. সোবহান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অধ্যাদেশটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)- বিশেষ করে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ লক্ষ্যের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারবে।
































