তাইজুল প্রস্তুত, কী ভাবছে বিসিবি?
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 185
লাল-সবুজের টেস্ট দলের হয়ে নেতৃত্ব দিতে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আগ্রহ প্রকাশ করে সোজা বলেছেন, তিনি প্রস্তুত। কিংবদন্তি তকমা লঙ্ঘন করে তিনি জোরালোভাবে জানিয়েছেন, “টেস্ট অধিনায়কত্বে আমার নাম রয়েছে”, বললেন দায়িত্ব-ভিত্তিক সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী এই স্পিন মাস্টার। লোভ নয়, তাঁর বক্তব্য “এটা দায়িত্বের বিষয়”।
২০১৪ থেকে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা এই বাঁহাতি স্পিনার এখন পর্যন্ত অর্জন করেছেন ২৩৭ উইকেট (৫৫ ম্যাচে গড় ৩১.৩২), যার মধ্যে রয়েছে ১৭টি ৫–উইকেট অর্জন এবং দুইবার এক ম্যাচে ১০ উইকেট প্রাপ্তি; সেরা বোলিং ফিগার ৮/৩৯।
শ্রীলঙ্কা (২০২১) ও জিম্বাবুয়ে– নিয়ে তার বোলিং আরও ধারালো—বিশেষ করে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে ৬/৬০ রানে উইকেট নেন
“বয়স এবং অভিজ্ঞতা এখন আমার পক্ষে কাজ করছে,”—দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তার ওপর জোর দেন তাইজুল।
তাকে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা দেখেন অন্যভাবে, প্রচারের আলোর বাইরে থাকেই পছন্দ এই বা-হাতি স্পিনারের। তাইজুলের মধ্যে রয়েছে অনন্য ক্রিকেটীয় দক্ষতা, পরিসংখ্যানও সেই সাক্ষী দেয়।
টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের মালিক তাইজুল বলেন, মাঠে দল পরিচালনা, পরিকল্পনা ও ভিশন নিয়ে তার প্রত্যাশিত কথা– “দুই বছর পর দলকে কোথায় দেখব”—এমন স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে নেতৃত্বে আগ্রহী।
বোর্ডের সিদ্ধান্তে যাই হোক না কেন, তাইজুল সবসময় ‘দল-ম্যানেজমেন্ট’ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একই ভিশনে কাজ করার ওপর সাজানেন।
এদিকে, লর্ড উপাধি পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলে পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুমিনুল হক–সহ দলে অন্যরা হলেও ভিন্ন ফরম্যাটে ভিন্ন অধিনায়কত্বের খসড়া ভাবনাও চলছে বোর্ডে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি চূড়ান্ত কালো অধ্যায় হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। সেদিক বিবেচনায় তাইজুলের যোগ্যতা থাকার পরও তাকে নিয়ে নতুন করে হতে পারে ঠেকিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা।

এদিকে, দেশের টেস্ট দলের পারফরম্যান্স, মাঝে মাঝে কিছু জয় আসে ব্যক্তি-নির্ভর দক্ষতায়, কিন্তু দল হিসেবে ধারাবাহিকতা নেই–বলেন তাইজুল।
তিনি সাফ জানালেন; “প্রতিটি ম্যাচ সুযোগ, ব্যাটসম্যানদেরই পার্টনারশিপ গড়ে সেঞ্চুরি করার দায়িত্ব নিতে হবে”, নেতৃত্বের স্পষ্ট পরামর্শ।
তাইজুলের টেস্ট ক্যারিয়ার ৫৫ ম্যাচের। উইকেট ২৩৭, গড় ৩১.৩২, ১৭ বার নিয়েছেন ফাইফার। স্পিন মেরুদণ্ডে নেতৃত্ব চালানোর এখন প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে সফরে দারুণভাবে নিজের ক্রিকেটীয় ঔদ্ধত্যের আভাস দিয়েছেন।
চাপে থাকা সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে নাটোরের সন্তান তাইজুল ইসলাম বলেন, মানসিক নান্দনিকতা পৃথক আলাদা বিষয়। তবে দলের সামগ্রিক সমন্বয় ও সংহতিতে তার নির্দেশনা স্পষ্ট থাকবে।
তাইজুল ইসলাম এখন শুধু একজন সফল স্পিনার নয়—একজন পরিকল্পনাধর্মী, মানসিক গভীরতা সম্পন্ন ক্রিকেটার, যিনি দায়িত্ব নিতে রাজি ও ক্রিকেট বোঝাশোনা দুই-ই আছে।
টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজেই একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছেন; যেন দলে নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা বিষয়ে নতুন আলোচনার সূচনা।
যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পুরস্কার দেওয়া, রাজনীতির মতো ক্রিকেটেও অবশেষে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’-ই চূড়ান্ত নির্ধারণ করবে অধিনায়ক কে হবেন। তবুও এখনকার আলোচনায় তাইজুলই আলোচনার কেন্দ্রে।





































