ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 90

সুপ্রিম কোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানির চতুর্থ দিনের কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

এদিন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন।

শুনানিতে শিশির মনির বলেন, প্রায় ৩৬ বছর আগে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র রক্ষায় একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল, যার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পরও জনগণ মনে করছে, এই ব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল পরিকল্পিত। সংসদীয় কমিটিও এটি বাদ দিতে চায়নি, কিন্তু একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় তা বাতিল করে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

শিশির মনির আশা প্রকাশ করেন, আদালতের যেকোনো রায় যেন জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার প্রক্রিয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দেয়। একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।

পরে এ রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক এবং নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি চলছে

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানির চতুর্থ দিনের কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

এদিন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন।

শুনানিতে শিশির মনির বলেন, প্রায় ৩৬ বছর আগে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র রক্ষায় একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল, যার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পরও জনগণ মনে করছে, এই ব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল পরিকল্পিত। সংসদীয় কমিটিও এটি বাদ দিতে চায়নি, কিন্তু একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় তা বাতিল করে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

শিশির মনির আশা প্রকাশ করেন, আদালতের যেকোনো রায় যেন জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার প্রক্রিয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দেয়। একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।

পরে এ রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক এবং নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।