ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবি ক্যাম্পাস ছাড়তে অনিচ্ছুক ভাসমানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাবি
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 117

ঢাবি ক্যাম্পাস ছাড়তে অনিচ্ছুক ভাসমানরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন জায়গাগুলো থেকে ভাসমান ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র বিতর্ক। অনেকে বলছেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ মানবিক নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও ভাসমানদের সরানো সম্ভব হচ্ছে না—তারা ক্যাম্পাস ছাড়তে চাইছেন না।

গত ২৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, শাহবাগ থানা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে টানা এক সপ্তাহের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে হকারদের একটি দল মিছিল করে দাবি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাই বিকল্প দোকান বা জায়গার ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা অন্যায়।

অন্যদিকে, হকারদের এই মিছিলের বিরোধিতা করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আরেকটি মিছিল বের হয়।

বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদের সদস্যপ্রার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের সময় ফুড কার্ট পরিচালনাকারী ও নারী চুড়ি বিক্রেতাদের মারধর ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষায়, “পথচারী বা দোকানদারদের গায়ে হাত তোলার কোনো অধিকার ছাত্রদের নেই। উচ্ছেদ কাজ আইনি প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত, যার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্তব্য।”

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, “ঢাবির গ্রিন ক্যাম্পাস চালুর পর হকারদের কার্ট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। যদি প্রশাসন পরিকল্পনামাফিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা করে, তাহলে হকারদের প্রয়োজন কমে আসবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করলে টেকসই সমাধান সম্ভব। তবে ডাকসুর সরাসরি অভিযান পরিচালনা করা ঠিক নয়—এতে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।”

ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, “কেউ অন্যায্যভাবে জায়গা দখল করে দোকান বসালে বা বেআইনি হকারগিরি করলে তার পুনর্বাসনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। মেয়েরা প্রায়ই আমাকে ভবঘুরে বা রিকশাচালকদের দ্বারা হেনস্তার অভিযোগ জানায়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও জানান, “সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।”

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “আমরা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু সাড়া মেলেনি। তারা এখনো ক্যাম্পাস ছাড়তে চায় না। আমরা সরাসরি গিয়ে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি জানাব। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ অনধিকার প্রবেশ করতে না পারে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাবি ক্যাম্পাস ছাড়তে অনিচ্ছুক ভাসমানরা

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন জায়গাগুলো থেকে ভাসমান ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র বিতর্ক। অনেকে বলছেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ মানবিক নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও ভাসমানদের সরানো সম্ভব হচ্ছে না—তারা ক্যাম্পাস ছাড়তে চাইছেন না।

গত ২৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, শাহবাগ থানা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে টানা এক সপ্তাহের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে হকারদের একটি দল মিছিল করে দাবি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাই বিকল্প দোকান বা জায়গার ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা অন্যায়।

অন্যদিকে, হকারদের এই মিছিলের বিরোধিতা করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আরেকটি মিছিল বের হয়।

বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদের সদস্যপ্রার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের সময় ফুড কার্ট পরিচালনাকারী ও নারী চুড়ি বিক্রেতাদের মারধর ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষায়, “পথচারী বা দোকানদারদের গায়ে হাত তোলার কোনো অধিকার ছাত্রদের নেই। উচ্ছেদ কাজ আইনি প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত, যার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্তব্য।”

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, “ঢাবির গ্রিন ক্যাম্পাস চালুর পর হকারদের কার্ট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। যদি প্রশাসন পরিকল্পনামাফিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা করে, তাহলে হকারদের প্রয়োজন কমে আসবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করলে টেকসই সমাধান সম্ভব। তবে ডাকসুর সরাসরি অভিযান পরিচালনা করা ঠিক নয়—এতে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।”

ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, “কেউ অন্যায্যভাবে জায়গা দখল করে দোকান বসালে বা বেআইনি হকারগিরি করলে তার পুনর্বাসনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। মেয়েরা প্রায়ই আমাকে ভবঘুরে বা রিকশাচালকদের দ্বারা হেনস্তার অভিযোগ জানায়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও জানান, “সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।”

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “আমরা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু সাড়া মেলেনি। তারা এখনো ক্যাম্পাস ছাড়তে চায় না। আমরা সরাসরি গিয়ে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি জানাব। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ অনধিকার প্রবেশ করতে না পারে।”