ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপককে হেনস্তা, অভিযুক্ত ডাকসু নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাবি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 176

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপককে হেনস্তা, অভিযুক্ত ডাকসু নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের)-এর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অধ্যাপক জামাল সেখান থেকে দৌড়ে বের হয়ে একটি গাড়িতে উঠে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, পাঁচজন শিক্ষক ‘গোপন বৈঠক’ করছিলেন এবং তাঁরা সেসব শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ঘটনাটিকে সরাসরি হামলা ও হেনস্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদকে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে আওয়ামী লীগসমর্থিত কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন এবং এক পর্যায়ে এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনকে তাড়া করা হয়।

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক হন জুবায়ের। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনায় তিনি আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থনের অভিযোগও ক্যাম্পাসে রয়েছে, যদিও তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে অস্বীকার বা স্বীকার কেউই করেননি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, অনুষদ ভবনের সিঁড়িতে জুবায়ের অধ্যাপক জামালকে আটকানোর চেষ্টা করছেন। জামাল উদ্দীন নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে নিচে নামলে জুবায়ের তাঁর পিছু নেন। পরে ওই শিক্ষক গাড়িতে উঠে চলে গেলে জুবায়ের গাড়ির দরজা টেনে ধরার চেষ্টাও করেন।

ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জানান, তাঁরা কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে চা পান করতে থেমেছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের আটকে দেন এবং একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা হয়। তাঁর ভাষ্য, “আমার ব্যাংক কার্ড ও অন্যান্য জিনিসও নিয়ে গেছে। একজন ছাত্রনেতা কি এভাবে শিক্ষকের ওপর হামলা করতে পারে?”

অধ্যাপক জিনাত হুদা, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, বলেন, “শিক্ষকদের হেনস্তা এখন নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে গেছে। এটি আমার কাছে হত্যাচেষ্টার মতো মনে হয়েছে। প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপককে হেনস্তা, অভিযুক্ত ডাকসু নেতা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের)-এর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অধ্যাপক জামাল সেখান থেকে দৌড়ে বের হয়ে একটি গাড়িতে উঠে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, পাঁচজন শিক্ষক ‘গোপন বৈঠক’ করছিলেন এবং তাঁরা সেসব শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ঘটনাটিকে সরাসরি হামলা ও হেনস্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদকে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে আওয়ামী লীগসমর্থিত কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন এবং এক পর্যায়ে এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনকে তাড়া করা হয়।

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক হন জুবায়ের। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনায় তিনি আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থনের অভিযোগও ক্যাম্পাসে রয়েছে, যদিও তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে অস্বীকার বা স্বীকার কেউই করেননি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, অনুষদ ভবনের সিঁড়িতে জুবায়ের অধ্যাপক জামালকে আটকানোর চেষ্টা করছেন। জামাল উদ্দীন নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে নিচে নামলে জুবায়ের তাঁর পিছু নেন। পরে ওই শিক্ষক গাড়িতে উঠে চলে গেলে জুবায়ের গাড়ির দরজা টেনে ধরার চেষ্টাও করেন।

ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জানান, তাঁরা কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে চা পান করতে থেমেছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের আটকে দেন এবং একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা হয়। তাঁর ভাষ্য, “আমার ব্যাংক কার্ড ও অন্যান্য জিনিসও নিয়ে গেছে। একজন ছাত্রনেতা কি এভাবে শিক্ষকের ওপর হামলা করতে পারে?”

অধ্যাপক জিনাত হুদা, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, বলেন, “শিক্ষকদের হেনস্তা এখন নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে গেছে। এটি আমার কাছে হত্যাচেষ্টার মতো মনে হয়েছে। প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।