ড্রিম হলিডে পার্কে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 406
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে নরসিংদীর আন্তর্জাতিক মানের বিনোদনকেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্ক। ঈদুল আযহা উপলক্ষে আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি বর্ণিল সাজে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে সাজানো হয়েছে ড্রিম হলিডে পার্কটি। দেশের ঐতিহ্যবাহী অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন ড্রিম হলিডে পার্কটি নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনার চৈতাবতে অবস্থিত। বাংলাদেশী ভ্রমণপিপাসুদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও ড্রিম হলিডে পার্কে ঘুরতে নিয়মিত আসেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে নরসিংদীর মনোরম ড্রিম হলিডে পার্কটি।
ঈদ উদযাপনে বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে ব্যস্ত থাকে মানুষ। নগরীর কোলাহল থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই দূর-দূরান্তে যাচ্ছেন। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক তেমনি এক আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র। রাজধানী থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক মানের বিনোদনকেন্দ্র নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক গড়ে উঠেছে।
শিশু ও বড়দের নানা আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে নতুন সংযোজন হয়েছে হেলিকপ্টার রেসকিউ। নতুন এই সংযোজন পার্কের এ বছরের ঈদ বিনোদনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ রোজার ঈদে নতুন সংযোজিত হয়েছে কৃত্রিম নদী ও পাহাড়বেষ্টিত ড্রিম সাফারি পার্ক। রাইডের মধ্যে রয়েছে ড্রিম আই, ডাইনোসর অ্যাটাক ও সুইং কার।
ঈদের দিন থেকেই সব বয়সী হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে ড্রিম হলিডে পার্কটি। অত্যাধুনিক কটেজ ও রেস্টুরেন্ট সুবিধা থাকায় অনেকে সপরিবারে ঈদ উদযাপন করতে এসেছেন এখানে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী নরসিংদীর এই বিনোদনকেন্দ্রে ছুটে আসছেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পার্শ্ববর্তী ভারতের আগরতলা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক। ঈদ উপলক্ষে নতুন সংযোজিত হেলিকপ্টার রেসকিউ দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। এছাড়া এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কৃত্রিম নদী, পাহাড়, জীবজন্তু ও বনমানুষের দ্বীপ নিয়ে ড্রিম হলিডে সাফারি পার্ক সবার নজর কেড়েছে। দিনভর কেবল কার, অত্যাধুনিক সুইমিং পুল, রোলার কোস্টার, ডেমু ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল, জাম্পিং হর্স—এখানে এলেই দেখা মেলে স্বপ্নের সেতুর ওপর দিয়ে চলতে থাকা স্কাই ট্রেনের। উৎসবের এই আড্ডায় পরিবার-পরিজন অনেকেই চড়ছেন প্যাডেল বোটে, ঘুরে ঘুরে দেখছেন ভূতের রাজ্য। এদিকে, হিমালয় পর্বতের সাদৃশ্য ফ্যানটম হিল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।

আইস পাহাড়সহ মজাদার সব ব্যতিক্রমী রাইড উপভোগ করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। পুরনো ভূতের বাড়িও দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এত কিছুর মধ্যে সবারই বেশি আকর্ষণ যেন ওয়াটার পার্ক ঘিরে।
গানের তালে তালে ওয়াটার কিংডমে পানির ঢেউয়ে দুলে নাচে গেয়ে আনন্দ-ফুর্তি করছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ। চলছে হৈ-হুল্লোড়, দাপাদাপি আর আনন্দ-চিৎকার। বোঝা যাচ্ছে, নগরের বাইরে এসে নরসিংদীর আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্কে মনের আনন্দে চলছে ঈদ উদযাপন।
কুমিল্লা থেকে আসা আনিসুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে কোথাও যাওয়া হয় না। ঈদকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে এসেছি, অনেক ঘোরাঘুরি করেছি। বিভিন্ন রাইডে উঠেছি। সবকিছু মিলে অনেক ভালো লেগেছে। এখানকার পরিবেশটা অন্যরকম। এই দৃশ্য দেখে সকলের প্রাণ জুড়ে যায়। স্বপ্নের টানেল, পদ্মা সেতু, সুইমিং পুল—সবকটাতে উঠেছি। মনের ভিতরে অফুরন্ত খুশি অনুভব করেছি। মনোরম পরিবেশ দেখে মনের মধ্যে খুবই প্রশান্তি লাগছে, যা বলে বোঝানো যাবে না। বিশেষ করে আমাদের ভূতের বাড়িটা অনেক ভালো লেগেছে।”
দর্শনার্থীরা ৩৫০ টাকার বিনিময়ে পার্কে প্রবেশ করছেন। এছাড়াও রাইড প্রতি গুণতে হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, ঈদ উপলক্ষে প্যাকেজগুলোতে রয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ দেশের বাইরে থেকেও বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই পার্কের সব রাইড উপভোগ করতে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী নান্দনিক সব রাইড বেছে নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা সবচেয়ে সুন্দর পার্ক এই ‘ড্রিম হলিডে পার্ক’। পার্কে এতো সুন্দর পরিবেশ আমি আর কোথাও দেখিনি। এছাড়াও এখানকার রাইডগুলো খুবই সুন্দর এবং মানসম্পন্ন। আমি আগে একবার এসেছিলাম। ঈদের লম্বা ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে আবার এসেছি।”
খাগড়াছড়ি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, “এই প্রথমবার এসেছি, অসাধারণ। এতো সুন্দর মনোরম পরিবেশ, জাস্ট ওয়াও! বেশ কয়েকটি রাইড চড়েছি। খুবই সুন্দর এবং ভালো মানের। পরিবার নিয়ে ভালো একটি সময় কাটানোর স্থান এই ‘ড্রিম হলিডে পার্ক’। এবার বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি, আগামীতে পরিবার নিয়ে আসার চিন্তা করছি।”

ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, “বাংলাদেশের দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ঈদকে কেন্দ্র করে আমার পার্কে এসে আনন্দ উপভোগ করছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্কে। সকলের কথা চিন্তা করে এই জায়গায় সব সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের জন্য এবং তাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য আমার এই পার্ক সর্বদিক দিয়ে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক মানের এই পার্ক প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য ঢেলে সাজানো হয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়। নতুন রাইডের পাশাপাশি বাকি সব রাইড আধুনিক ডিজাইনে সাজানো হয়েছে। এখানে দেশি-বিদেশি বহু সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে।”
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে ড্রিম হলিডে পার্ক। এতিম ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিনা টিকিটে ভ্রমণের সুবিধা।
উল্লেখ্য, প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই পার্কটিতে ওয়াটার পার্ক, স্কাই ট্রেন, বুলেট ট্রেন, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট ও ভূতের রাজ্যসহ ২৫টি রাইডে চড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সব বয়সী দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা ৩৫০ টাকার বিনিময়ে পার্কে প্রবেশ করছেন। এ ছাড়াও রাইড প্রতি গুণতে হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।





































