ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিসি ও এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 69

ডিসি ও এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জামায়াতের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির ভিত্তিতে রদবদলের প্রস্তাব তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ করেই একাধিক ডিসি ও এসপিকে বদলি করা হয়েছে। এতে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে আসে; তাই সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার জন্য লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে। এতে কারো পক্ষেই প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর এক রাতেই প্রশাসনের বড় রদবদল করা হয়েছিল, যা তখন আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ না নিলে জনমনে সন্দেহ আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে মতামত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুলাই সনদ ও গণভোটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কোন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া উচিত তা পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে না পারলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দলটি আগেই গণভোট আগে আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল।

লাউডস্পিকার ব্যবহারে বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি

প্রচারণায় লাউডস্পিকার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিস্তৃত নির্বাচনি এলাকায় মাত্র তিনটি লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থীদের জন্য বাধা তৈরি করবে। ইউনিয়নভিত্তিক বড় বড় এলাকায় একই সঙ্গে প্রচারণা চালানো কঠিন হবে; তাই নিয়ম পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটার তালিকার ছবি অস্পষ্ট—উন্নয়নের দাবি

ভোটার তালিকার ছাপা ছবির মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা। স্পষ্ট ছবি না থাকলে পরিচয় যাচাই করতে সমস্যা হয়, যার সুযোগে অনিয়মের সম্ভাবনা থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সেনা সদস্য বৃদ্ধির প্রস্তাব

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে সেনা সদস্য দায়িত্বে দিলে তা পর্যাপ্ত নয়; অন্তত পাঁচজন করে সেনা সদস্য মোতায়েন করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। এতে সন্ত্রাস, নাশকতা ও ভোটকেন্দ্র দখলের ঝুঁকি কমবে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা–বোধ বাড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিসি ও এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জামায়াতের

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির ভিত্তিতে রদবদলের প্রস্তাব তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ করেই একাধিক ডিসি ও এসপিকে বদলি করা হয়েছে। এতে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে আসে; তাই সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার জন্য লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে। এতে কারো পক্ষেই প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর এক রাতেই প্রশাসনের বড় রদবদল করা হয়েছিল, যা তখন আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ না নিলে জনমনে সন্দেহ আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে মতামত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুলাই সনদ ও গণভোটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কোন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া উচিত তা পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে না পারলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দলটি আগেই গণভোট আগে আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল।

লাউডস্পিকার ব্যবহারে বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি

প্রচারণায় লাউডস্পিকার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিস্তৃত নির্বাচনি এলাকায় মাত্র তিনটি লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থীদের জন্য বাধা তৈরি করবে। ইউনিয়নভিত্তিক বড় বড় এলাকায় একই সঙ্গে প্রচারণা চালানো কঠিন হবে; তাই নিয়ম পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটার তালিকার ছবি অস্পষ্ট—উন্নয়নের দাবি

ভোটার তালিকার ছাপা ছবির মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা। স্পষ্ট ছবি না থাকলে পরিচয় যাচাই করতে সমস্যা হয়, যার সুযোগে অনিয়মের সম্ভাবনা থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সেনা সদস্য বৃদ্ধির প্রস্তাব

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে সেনা সদস্য দায়িত্বে দিলে তা পর্যাপ্ত নয়; অন্তত পাঁচজন করে সেনা সদস্য মোতায়েন করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। এতে সন্ত্রাস, নাশকতা ও ভোটকেন্দ্র দখলের ঝুঁকি কমবে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা–বোধ বাড়বে।