ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে থাই-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতির পথে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / 122
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চলমান থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাত ঘিরে নতুন কূটনৈতিক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করতে চায়, তবে আমরা মনে করি তা এখনই সম্ভব নয় যতক্ষণ না সংঘর্ষ বন্ধ হয়।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছিল। বিতর্কিত ‘প্রাহ ভিহেয়ার’ মন্দির এলাকা ঘিরে নতুন করে গোলাগুলির খবর মিলেছে, যাতে বেশ কয়েকজন সেনা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘ এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ইতোমধ্যে এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঠিক এমন এক সময়েই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “এই দুই দেশের সঙ্গে কাজ করা ছিল আমার জন্য সম্মানের বিষয়। তারা একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদার। আমি আশা করি তারা ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, দুই দেশ রাজি হয়েছে দ্রুত বৈঠকে বসে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নির্ধারণে। সেইসঙ্গে, ভবিষ্যতে আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত ইমেজ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশলও হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি কতটা হয়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার আন্তরিকতার ওপর। তবে ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থা বেশ অনিশ্চিত।



































