ট্রাম্পের শুল্কচাপে ইউনূসের সফট ডিপ্লোমেসি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
- / 785
বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্কের চাপ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করছে কৌশলগত এক কূটনৈতিক উদ্যোগ, যা বিশ্লেষকদের ভাষায় “সফট ডিপ্লোমেসি”। তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া এবং হালকা প্রকৌশল খাতের ওপর এই শুল্কের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যে, ফলে রপ্তানি আদেশ কমছে এবং কিছু ক্রেতা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া বা মেক্সিকোর মতো বিকল্প বাজারে ঝুঁকছেন।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। গম আমদানির এই সিদ্ধান্ত সরকার থেকে সরকার পর্যায়ের (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমেরি ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেটেড সরবরাহকারী হিসেবে থাকছে। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ২৮২.৯৫ মার্কিন ডলার, যা একই সময় রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গমের দামের চেয়ে প্রায় ৫ ডলার বেশি।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট কৌশলগত বার্তা; বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আন্তরিক। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে শুধু দাম বিবেচনা করার সময় নয়। আমাদের লক্ষ্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
সরকারি ক্রয় কমিটির সভায় আরও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও, যদিও এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির বিষয়টিকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান বদলানো সম্ভব নয়। এর জন্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রভাবশালী লবিস্টের সহায়তা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য অনেক বেশি রাজনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক। সেখানে কেবল পণ্যদাম বা রপ্তানির পরিমাণ নয়; রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে বোঝায় যে, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যয় বহন করতেও রাজি।
এ উদ্যোগ একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেয়, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান ও সদিচ্ছা তুলে ধরে। তবে বাস্তবতা হলো, শুল্ক প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে কেবল আমদানি নয়, চাহিদা, প্রভাব এবং কূটনীতির শক্ত সমন্বয়ই হবে মূল হাতিয়ার।
এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, এ প্রসঙ্গে আসলে আমি কিছু চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে চাই না। বলতে চাই না এ কারণে যে, নেগোসিয়েশন এখনো চলমান। নেগোসিয়েশন চলমান অবস্থায় এ নিয়ে কমেন্ট করে…আমি যেহেতু সরকারের মানুষ সরকারের পক্ষ থেকে আমি কোনো বিব্রত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। আশা করছি, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ বিষয়ে আরো বেশি আন্তরিক ও জোরালো ভূমিকা পালন করবেন।




































