ট্রাম্প-মোদি সম্পর্কে কি আবারো ইউটার্ন?
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 142
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো বন্ধুত্বপূর্ণ। একাধিকবার বিভিন্ন প্লাটফর্মে দুই জানিয়েছিলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধানও। তবে এখন সবই অতীত। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং নয়াদিল্লির প্রতি ক্রমাগত সমালোচনাই এ সংকট আরও গভীর করেছে।
তবে গত কয়েক ঘন্টায় ট্রাম্প ও মোদির মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। ওয়াশিংটনে গতরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একজন বড় মাপের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প মোদিকে “মহান প্রধানমন্ত্রী” এবং “বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব।” তিনি আরও বলেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই বিশেষ।” এ সময় তিনি ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এবং ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সদয় মন্তব্য ও আমাদের সম্পর্কের ইতিবাচক মূল্যায়নের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং সম্পূর্ণভাবে প্রতিদান জানাই।” তিনি ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে “সম্মিলিত ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) কমানোর মাধ্যমে ভোক্তা পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, যা গ্রামীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে।
দুই নেতার এই সদয় মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাণিজ্যিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, যেখানে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের এই নতুন মোড় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হলেও, তাদের সেই সম্পর্ক এখন অতীত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বোল্টনের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন দুই দশকের মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও নয়াদিল্লির প্রতি ক্রমাগত সমালোচনা এ সংকট আরও গভীর করেছে।
প্রথম দফায় ট্রাম্প প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বোল্টন মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচক। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে মোদির সঙ্গে সম্পর্ক একসময় খুব ভালো ছিল। তবে সেটা এখন শেষ হয়ে গেছে। এটা সবার জন্য শিক্ষা — যেমন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের জন্যও — যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক সাময়িক সুবিধা দিলেও খারাপ পরিস্থিতি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বোল্টনের মেরিল্যান্ডের বাড়ি ও ওয়াশিংটনের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। গোপন নথি ব্যবহারের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।






































