টেকনাফে ডাকাত–অপহরণ আতঙ্ক: রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 70
কক্সবাজারের টেকনাফে সাম্প্রতিক সময় ডাকাত ও অপহরণকারীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাহারছড়া ইউনিয়নের মানুষ। সন্ধ্যা নামলেই স্থানীয় যুবকেরা নির্ঘুম রাত পার করে পাহারায় থাকছেন। বিপদের আশঙ্কায় নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে মসজিদসহ নিরাপদ স্থানে রাত যাপন করছেন।
সরেজমিনে উঠে আসে, বাহারছড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়ি-ঘর পাহাড়ের পাশে হওয়ায় সুযোগ পেয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও অপহরণচক্র মাঝরাত কিংবা দিনের বেলায়ও লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ঘরে হামলার চেষ্টা, ভয় দেখাতে গুলি ছোড়া এবং সুযোগ পেলেই মূল্যবান জিনিস লুট করা বা মানুষ অপহরণের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।
গত কয়েক মাসে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী এমনকি শিশু পর্যন্ত অপহরণের শিকার হয়েছে। এতে নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছে স্থানীয়রা পরিবারকে রক্ষা করতে রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরে শীলখালী ও চৌকিদারপাড়া এলাকায় রাতে পাহাড় থেকে নেমে ডাকাতদল বাড়ি-ঘরে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চৌকিদারপাড়ার বাসিন্দা নুরে আলমের ভাষায়, “প্রতিদিন রাত হলে আমরা ঘর ছেড়ে মসজিদের বারান্দা বা উঠানে আশ্রয় নিই। শতাধিক পরিবার এখন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে।”
তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা যায়, আর হামলার চেষ্টা এখন নিত্যকার ঘটনা।
শীলখালীর লিয়াকত আলী জানান, “দুই রাত আগে ২০-৩০ জনের একটি ডাকাতদল গ্রামে ঢুকেছিল। গ্রামের লোকজন প্রতিরোধ করায় তারা পালিয়ে যায়।”
স্থানীয় যুবক জুবায়ের ইসলাম জুয়েল বলেন, “গত দু’দিন ধরে সংগঠিত হয়ে পাহারা দিচ্ছি। ডাকাতরা যেন আবার হামলা করতে না পারে সে জন্য সবাই প্রস্তুত আছি।”
শীলখালী জুমপাড়ার প্রবাসী আব্দুল্লাহর ছেলে ইমরান খান নয়ন জানান, মাগরিবের সময় ১০–১৫ জন সশস্ত্র ডাকাত তাকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটক রাখার পর গ্রামবাসীর চাপের মুখে ডাকাতরা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
বাহারছড়া শামলাপুরের শহীদ উল্লাহ বলেন, “অবস্থা এমন যে ঘরে থাকার মতো নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন মানুষ দলবদ্ধভাবে মসজিদের উঠানে রাত কাটাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি।
এদিকে, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, শীলখালীর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন,
“ডাকাত ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, সে জন্য আমরা সতর্ক আছি।”



































