ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে ট্রাম্পের অনীহা, খালি হাতে ফিরলেন জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 135

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে ট্রাম্পের অনীহা, খালি হাতে ফিরলেন জেলেনস্কি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইউক্রেনকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে আগ্রহী নন—এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ, তবে কার্যকর ফলাফলের দিক থেকে খালি। আলোচনার পর জেলেনস্কি জানান, তারা দূরপাল্লার অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, কিন্তু উত্তেজনা না বাড়ানোর যুক্তিতে কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েভ ও মস্কো—উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার একদিন পর ঘোষণা দেন যে তারা হাঙ্গেরিতে সরাসরি দেখা করবেন।

জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার জ্বালানি ও তেলের স্থাপনাগুলোতে টমাহক দিয়ে হামলা পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

যদিও ট্রাম্প পুরোপুরি এই ধারণা বাতিল করেননি, হোয়াইট হাউসে তার বক্তব্য ছিল বেশ সতর্ক।
তিনি বলেন, “আশা করি এমন পরিস্থিতি আসবে না, যাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দরকার হয়। যুদ্ধ যদি তা ছাড়াই শেষ করা যায়, সেটিই হবে শ্রেয়।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকেও তার অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
“এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে, তবে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব,” বলেন ট্রাম্প।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা পুতিনকে আলোচনায় আগ্রহী করে তুলেছে কি না—“হুমকি সবসময়ই একটি উপাদান থাকে,” উত্তর দেন তিনি।

জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইউক্রেন ড্রোন সরবরাহের বিনিময়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবে হাসেন ও মাথা নাড়েন—যদিও কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

জেলেনস্কি ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগে ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, একইভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাইরে এক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি পুতিনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানান, তবে বলেন যে ইউক্রেন যদি টমাহক পায়, রাশিয়া সেটিকে “ভয় পায়, কারণ এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র।”

ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় এক প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “আমি আশাবাদী নই, আমি বাস্তববাদী।”

এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তিনি ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমগ্র ইউরোপকে আরও সুদৃঢ় করা।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে যুক্তরাজ্য মানবিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সম্প্রতি ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখালেও, পুতিন সতর্ক করে দিয়েছেন—এই সিদ্ধান্ত মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার ফোনালাপ ছিল “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিমূলক” এবং তারা শিগগিরই হাঙ্গেরিতে সরাসরি আলোচনা করবেন।

বৈঠকের আগে এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন—পুতিন ও জেলেনস্কির সম্পর্ক “উত্তেজনাপূর্ণ”, তবে তিন নেতা একসঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। “আমরা চাই সবাই যেন স্বস্তিতে থাকে,” বলেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম ফোনালাপ “বহু ইতিবাচক ইঙ্গিত” দিয়েছে এবং দুই দেশের কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে আরও আলোচনায় বসবেন।

আগস্টে আলাস্কায় এক পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনে যুদ্ধ সমাপ্তির আশায় পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু ওই বৈঠক কোনো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারেনি।

এরপর ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

কিয়েভের এক শহরতলিতে বিবিসি শুক্রবার কথা বলে এক দম্পতির সঙ্গে, যাদের ছোট ব্যবসা গত মাসে রাশিয়ান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। দোকানের মালিক ভলোদিমির বলেন, “আমরা সব রকম সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ।”

কিন্তু কথার মাঝপথে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি থেমে যান। কিছুক্ষণ পর চোখ মুছে আবার বলেন—
“সত্য ও গণতন্ত্রই জয়ী হবে, সন্ত্রাস ও অন্ধকার শেষ হবে। আমরা কেবল বেঁচে থাকতে চাই। আমরা হাল ছাড়ি না। আমরা শুধু চাই, ওরা আমাদের একা ছেড়ে দিক।”

সূত্র: বিবিসি

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে ট্রাম্পের অনীহা, খালি হাতে ফিরলেন জেলেনস্কি

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইউক্রেনকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে আগ্রহী নন—এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ, তবে কার্যকর ফলাফলের দিক থেকে খালি। আলোচনার পর জেলেনস্কি জানান, তারা দূরপাল্লার অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, কিন্তু উত্তেজনা না বাড়ানোর যুক্তিতে কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েভ ও মস্কো—উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার একদিন পর ঘোষণা দেন যে তারা হাঙ্গেরিতে সরাসরি দেখা করবেন।

জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার জ্বালানি ও তেলের স্থাপনাগুলোতে টমাহক দিয়ে হামলা পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

যদিও ট্রাম্প পুরোপুরি এই ধারণা বাতিল করেননি, হোয়াইট হাউসে তার বক্তব্য ছিল বেশ সতর্ক।
তিনি বলেন, “আশা করি এমন পরিস্থিতি আসবে না, যাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দরকার হয়। যুদ্ধ যদি তা ছাড়াই শেষ করা যায়, সেটিই হবে শ্রেয়।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকেও তার অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
“এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে, তবে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব,” বলেন ট্রাম্প।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা পুতিনকে আলোচনায় আগ্রহী করে তুলেছে কি না—“হুমকি সবসময়ই একটি উপাদান থাকে,” উত্তর দেন তিনি।

জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইউক্রেন ড্রোন সরবরাহের বিনিময়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবে হাসেন ও মাথা নাড়েন—যদিও কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

জেলেনস্কি ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগে ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, একইভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাইরে এক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি পুতিনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানান, তবে বলেন যে ইউক্রেন যদি টমাহক পায়, রাশিয়া সেটিকে “ভয় পায়, কারণ এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র।”

ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় এক প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “আমি আশাবাদী নই, আমি বাস্তববাদী।”

এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তিনি ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমগ্র ইউরোপকে আরও সুদৃঢ় করা।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে যুক্তরাজ্য মানবিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সম্প্রতি ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখালেও, পুতিন সতর্ক করে দিয়েছেন—এই সিদ্ধান্ত মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার ফোনালাপ ছিল “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিমূলক” এবং তারা শিগগিরই হাঙ্গেরিতে সরাসরি আলোচনা করবেন।

বৈঠকের আগে এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন—পুতিন ও জেলেনস্কির সম্পর্ক “উত্তেজনাপূর্ণ”, তবে তিন নেতা একসঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। “আমরা চাই সবাই যেন স্বস্তিতে থাকে,” বলেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম ফোনালাপ “বহু ইতিবাচক ইঙ্গিত” দিয়েছে এবং দুই দেশের কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে আরও আলোচনায় বসবেন।

আগস্টে আলাস্কায় এক পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনে যুদ্ধ সমাপ্তির আশায় পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু ওই বৈঠক কোনো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারেনি।

এরপর ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

কিয়েভের এক শহরতলিতে বিবিসি শুক্রবার কথা বলে এক দম্পতির সঙ্গে, যাদের ছোট ব্যবসা গত মাসে রাশিয়ান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। দোকানের মালিক ভলোদিমির বলেন, “আমরা সব রকম সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ।”

কিন্তু কথার মাঝপথে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি থেমে যান। কিছুক্ষণ পর চোখ মুছে আবার বলেন—
“সত্য ও গণতন্ত্রই জয়ী হবে, সন্ত্রাস ও অন্ধকার শেষ হবে। আমরা কেবল বেঁচে থাকতে চাই। আমরা হাল ছাড়ি না। আমরা শুধু চাই, ওরা আমাদের একা ছেড়ে দিক।”

সূত্র: বিবিসি