ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সুইচ বন্ধ, বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 190

জ্বালানি সুইচ বন্ধ, বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট

২০২৫ সালের ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ উড্ডয়নের কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে ২৬০ জন নিহত হন। শুধু একজন ব্রিটিশ যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) এ ঘটনার একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে – দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে বিমানটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, যার ফলে উভয় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ে।

ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং: প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি

ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ ‘রান’ পজিশন থেকে হঠাৎ ‘কাট অফ’ পজিশনে চলে যায়। একজন পাইলট হঠাৎ বলেন: “তুমি বন্ধ করে দিলে কেন?”, অন্য পাইলট জবাব দেন, “আমি কিছু করিনি।”

এই কথোপকথনের পর আন্তর্জাতিক সময়ানুযায়ী সকাল ৮টা ৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে ১ নম্বর ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ আবার ‘রান’ অবস্থায় ফিরে আসে এবং ৪ সেকেন্ড পর ২ নম্বর ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচও চালু হয়ে যায়। কিন্তু তখন আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সময় ছিল না।

বিপদের সংকেত: ‘মে ডে’ ঘোষণা

৮টা ৯ মিনিট ৫ সেকেন্ডে পাইলট গ্রাউন্ড কন্ট্রোলকে বারবার বলেন: “মে ডে, মে ডে, মে ডে”—যা আন্তর্জাতিকভাবে চরম সংকটের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মুহূর্তে বোঝা যায়, পাইলটরা আর বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না।

জ্বালানির মান ‘সন্তোষজনক’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করে তাতে কোনো ত্রুটি বা দূষণের প্রমাণ মেলেনি। যদিও এর আগে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি জমাট বাঁধা বা দূষণের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।

বিমান ভেঙে পড়ার পর

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা যায়। আশেপাশের অন্তত পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পরই ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার হয় ১২ জুন সন্ধ্যায় এবং দ্বিতীয়টি পাওয়া যায় ১৬ জুন। দু’টি ব্ল্যাকবক্সের বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই তৈরি হয় ১৫ পৃষ্ঠার এই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন।

পাইলট ও ক্রুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা

প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় পাইলটই মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদে আসেন দুর্ঘটনার আগের দিন এবং তারা নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ বিশ্রাম পান। ১২ জুন সকালে ৬টা ২৫ মিনিটে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং তারা ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।

পাইলটদের অভিজ্ঞতা

এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটির প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন (LTC) ছিলেন এবং তার বিমানের অভিজ্ঞতা ছিল ৮২০০ ঘণ্টা। কো-পাইলটের অভিজ্ঞতা ছিল ১১০০ ঘণ্টা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

ভারতের তদন্তের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তদন্তকারী দল আহমেদাবাদে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই এই দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটির বদলে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়া মূল কারণ হতে পারে। তবে এটি পাইলটের ভুল না যান্ত্রিক ত্রুটি – তা চূড়ান্তভাবে এখনো নির্ধারিত হয়নি। তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে হয়তো স্পষ্ট হবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুরো রহস্য।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জ্বালানি সুইচ বন্ধ, বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

২০২৫ সালের ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ উড্ডয়নের কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে ২৬০ জন নিহত হন। শুধু একজন ব্রিটিশ যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) এ ঘটনার একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে – দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে বিমানটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, যার ফলে উভয় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ে।

ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং: প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি

ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ ‘রান’ পজিশন থেকে হঠাৎ ‘কাট অফ’ পজিশনে চলে যায়। একজন পাইলট হঠাৎ বলেন: “তুমি বন্ধ করে দিলে কেন?”, অন্য পাইলট জবাব দেন, “আমি কিছু করিনি।”

এই কথোপকথনের পর আন্তর্জাতিক সময়ানুযায়ী সকাল ৮টা ৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে ১ নম্বর ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ আবার ‘রান’ অবস্থায় ফিরে আসে এবং ৪ সেকেন্ড পর ২ নম্বর ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচও চালু হয়ে যায়। কিন্তু তখন আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সময় ছিল না।

বিপদের সংকেত: ‘মে ডে’ ঘোষণা

৮টা ৯ মিনিট ৫ সেকেন্ডে পাইলট গ্রাউন্ড কন্ট্রোলকে বারবার বলেন: “মে ডে, মে ডে, মে ডে”—যা আন্তর্জাতিকভাবে চরম সংকটের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মুহূর্তে বোঝা যায়, পাইলটরা আর বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না।

জ্বালানির মান ‘সন্তোষজনক’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করে তাতে কোনো ত্রুটি বা দূষণের প্রমাণ মেলেনি। যদিও এর আগে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি জমাট বাঁধা বা দূষণের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।

বিমান ভেঙে পড়ার পর

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা যায়। আশেপাশের অন্তত পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পরই ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার হয় ১২ জুন সন্ধ্যায় এবং দ্বিতীয়টি পাওয়া যায় ১৬ জুন। দু’টি ব্ল্যাকবক্সের বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই তৈরি হয় ১৫ পৃষ্ঠার এই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন।

পাইলট ও ক্রুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা

প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় পাইলটই মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদে আসেন দুর্ঘটনার আগের দিন এবং তারা নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ বিশ্রাম পান। ১২ জুন সকালে ৬টা ২৫ মিনিটে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং তারা ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।

পাইলটদের অভিজ্ঞতা

এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটির প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন (LTC) ছিলেন এবং তার বিমানের অভিজ্ঞতা ছিল ৮২০০ ঘণ্টা। কো-পাইলটের অভিজ্ঞতা ছিল ১১০০ ঘণ্টা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

ভারতের তদন্তের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তদন্তকারী দল আহমেদাবাদে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই এই দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটির বদলে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়া মূল কারণ হতে পারে। তবে এটি পাইলটের ভুল না যান্ত্রিক ত্রুটি – তা চূড়ান্তভাবে এখনো নির্ধারিত হয়নি। তদন্ত চলছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে হয়তো স্পষ্ট হবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুরো রহস্য।