জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সংকট বাড়ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 130
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় একের পর এক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি প্রশ্নের সমাধান হওয়ার পর নতুন প্রশ্ন উঠছে। প্রধানত এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সাংবিধানিক আদেশ জারি এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদ পাস হলেও আগামী সংসদে এর বাস্তবায়ন কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। এ নিয়ে শনিবার আবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন।
সূত্র জানায়, জুলাই সনদ প্রণয়নের সময় তার বাস্তবায়ন বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি। সনদের খসড়া প্রণয়ন এবং ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। গণভোটের সিদ্ধান্তে দলগুলো একমত হলেও গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি।
এই অবস্থায় কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সনদের সঙ্গে পৃথক সুপারিশ আকারে সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হবে। ৩০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৫টি দল স্বাক্ষর করেছে, বাকি পাঁচটি দল এখনো স্বাক্ষর করেনি। এদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বাক্ষর করবেন না।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত এড়িয়ে প্রথমে সাংবিধানিক আদেশ জারি করার প্রস্তাব করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রস্তাবিত আদেশের নাম হবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’। এটি সংবিধান ও অন্যান্য আইনের পরিপূরক হবে। আদেশের মাধ্যমে গণভোট হবে এবং বাস্তবায়ন সুপারিশে আগামী সংসদের দ্বৈত ভূমিকার প্রস্তাব থাকবে। একটি ভূমিকা হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা, অন্যটি হলো নিয়মিত সংসদ হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনের আগপর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। এতে আগামী সংসদ ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ৯ মাস বা ২৭০ দিনে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি ৯ মাসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হয়, সংসদ ও পরিষদ বিলুপ্ত হবে এবং জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হবে। তবে পরবর্তী সংসদের সংস্কারের বাধ্যবাধকতা এবং গণভোটের মাধ্যমে গঠিত পরিষদ বিলুপ্ত করার এখতিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া, সাংবিধানিক আদেশ জারি করার বিষয়েও মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্রপতির আদেশ চান, কিন্তু জামায়াত ও এনসিপি সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন আগে গণভোট দিতে চায়। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে।
গণভোটে প্রশ্নটি হবে, ‘আপনি কি আদেশ এবং সংস্কার সমর্থন করেন কিনা?’ ভোটে হ্যাঁ বা না মাধ্যমে জনগণ মতামত জানাবে। তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বিষয়টি গণভোটে আলাদা থাকবে না। এটি বিএনপি ও অন্যান্য দলের আগের সংবিধান সংস্কারের নয়টি প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।
সংবিধান সংস্কারের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, যা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া, যদি কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় বা ঝুলন্ত সংসদ হয়, অথবা সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন হলে তা কোন সরকারের অধীনে হবে, সেটাও প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত।
এই অবস্থায় ঐকমত্য কমিশন চায় এমন কোনো বিধান করা, যা সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবে। সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। আদেশের খসড়া প্রস্তাবে কী থাকবে, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার চেষ্টা চলছে। শনিবার আবারও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক হবে এবং আজকের মধ্যে সব কিছু চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে সুপারিশ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
































