৫ আগস্ট উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্ধোধন স্থগিত
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 182
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনের জমিতে নির্মাণাধীন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাদুঘরের কিউরেটর তানজিব ওয়াহাব। তিনি বলেন, “গণভবনে জাদুঘর ৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।”
একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অর্থ ছাড় ঠিকভাবে হলেও সিভিল ও ইএম (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এখনো কাজ চলমান। তিনি জানান, কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ।
জানা গেছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গণভবনের ১৭.৬৮ একর জমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির লিজ দলিল সম্পন্ন হয়। এতে দাতা হিসেবে স্বাক্ষর করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং গ্রহীতা হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান।
জমিটি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে প্রতি বছর ৩ হাজার টাকা হারে খাজনা দিতে হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া জমি হস্তান্তর বা স্থাপনায় কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না।
৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘরের রূপান্তর কার্যক্রম শেষ করতে যে নির্মাণ বা সংস্কারকাজ প্রয়োজন, তা হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অর্থাৎ দরপত্র ছাড়া। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গত ১৫ জুলাই সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জাদুঘরের নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইএমের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যার কাজ করছে ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’। পূর্ত কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়ন করছে ‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাদুঘর গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনে বিলম্ব হয়। অবশেষে ৮ জুলাই নকশা অনুমোদিত হলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
জাদুঘর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) ড. মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সিভিল অংশের সঙ্গে সমানতালে ইএম কাজও এগোচ্ছে। কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক।”
































