সামান্তা শারমিন
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 64
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা সহযোগিতায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি জামায়াতকে ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়’ উল্লেখ করে বলেন, দলটির সঙ্গে সমঝোতায় গেলে এনসিপিকে কঠিন রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পোস্টে সামান্তা শারমিন এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শ ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেন। তিনি লেখেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা দাবি করেছেন— ‘জুলাই স্পিরিট’ ও দেশ নিয়ে ভাবনার সঙ্গে একমত হলে যেকোনো দল তাদের সঙ্গে জোট করতে পারে। তবে এনসিপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান, মূলনীতি ও রাষ্ট্রকল্প জামায়াতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন তথা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’কে কেন্দ্র করে এনসিপি গড়ে উঠেছে। ফলে এই তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রতার পূর্বশর্ত। এ জায়গায় জামায়াতের অবস্থান এনসিপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিজের বক্তব্যকে দলের গত দেড় বছরের অবস্থানের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্নকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার দাবিতে জামায়াত সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এনসিপির আহ্বায়ক আগেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন— যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোট সম্ভব নয়।
এই অবস্থানের ধারাবাহিকতায় জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলটি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে— এ লক্ষ্যে সারা দেশ থেকে প্রার্থী আহ্বান করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে তিনি বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বরং বিভিন্ন ইস্যুতে এনসিপির যে অবস্থান এতদিন ধরে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে, সেটিকেই তিনি সঠিক মনে করেন এবং নিজেকে সেই আদর্শের সৈনিক হিসেবে বিবেচনা করেন।
তার মতে, বিএনপি বা জামায়াত— যেকোনো দলের সঙ্গে জোট গঠন এনসিপির মৌলিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নীতিমালা থেকে সরে যাওয়ার শামিল হবে।
































