বেকারদের জন্য জামায়াতের বিশাল প্রতিশ্রুতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 35
ক্ষমতায় এলে শিক্ষাজীবন শেষের পর চাকুরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এ ছাড়া ভ্যাট কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসার এবং ট্যাক্স ১৯ শতাংশে স্থির রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণ ও শ্রমিকদের জন্য নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে এবং সকল শিল্পে আগামী তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বৃদ্ধি করা হবে না। বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে পুনরায় চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা দেওয়া হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে দলটি ১ লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদান করবে এবং প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে বড় কলেজগুলোকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষা ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নেওয়া হবে।
তরুণদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করে ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ চালু করা হবে, এবং ৫০ লাখ জব এক্সেস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে এবং ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা হবে।
আইসিটি খাতের উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করা হবে, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট করা হবে এবং ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে আগামী ৫-৭ বছরে প্রাপ্ত আয় দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রফেশনালদের দেশে ফিরিয়ে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
পলিসি সামিটে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সভায় ছিলেন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে দলটি শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, তরুণ ও আইসিটি খাতসহ দেশের বিভিন্ন খাতের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেছে।































