জাতীয় সংগীত গাইতে গাইতে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনাল ছাড়লেন পলক
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 54
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের আদালত থেকে বের করে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়—সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করেন। তার সঙ্গে ভ্যানে থাকা অন্যান্য আসামিরাও কণ্ঠ মেলান।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার পর কড়া নিরাপত্তায় তাদের প্রিজনভ্যানে তুলে নেয় পুলিশ। উঠানোর পরই পলক জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু করলে তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এর আগে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের সামনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন।
প্রসিকিউশন জানায়, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনকে আসামি করা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।
সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে যাদের আনা হয় তারা হলেন—
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
অসুস্থতার কারণে সাবেক এমপি ফারুক খানকে এদিন হাজির করা হয়নি।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে—সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ইনুর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যায় দায়ী থাকার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে জয়কে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন সময়ে আনা অভিযোগগুলোতেও ধাপে ধাপে চার্জ গঠন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মামলায় সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং এমপিদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র জমা দিচ্ছে প্রসিকিউশন।
































