ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিবৃতি
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় দেশের জন্য বিপজ্জনক
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 263
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ১৪ জুলাই এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশে খোলার অনুমতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই কার্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত না করেই উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের বিস্মিত করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মানবাধিকার পশ্চিমা শক্তির রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের একচোখা ও পক্ষপাতদুষ্ট নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী তারা সমালোচিত। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, ভিন্নমত দমন এবং নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানবাধিকার ইস্যু ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে। ফলে এই কার্যালয়ের অনুমতি দেশে নানাবিধ জটিলতা ও বিপদের সৃষ্টি করবে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সংজ্ঞা প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা দার্শনিক চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত এবং আমাদের সংস্কৃতি, সমাজবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। এই সংজ্ঞায় সমকামিতার বৈধতা, ট্রান্সজেন্ডার স্বীকৃতি, গর্ভপাতের অধিকার, নারী-পুরুষের সমান উত্তরাধিকার, উন্মুক্ত যৌন শিক্ষা এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপের মতো বিষয় রয়েছে—যা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এই আদর্শকে ভিত্তি করে জাতিসংঘ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করবে। ফলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং পর্যটনে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
মাওলানা আতাউর রহমান আরও বলেন, জাতিসংঘের কার্যালয় এসব মতাদর্শ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রথমে নানা প্রচারণা চালাবে, সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের পক্ষের মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা করবে। প্রশ্ন হচ্ছে, যা আমাদের জন্য কল্যাণকর নয় এবং যা আমাদের সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী, সেই বিষয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার অনুমতি কেন দেওয়া হবে? এবং যেহেতু এসব বিষয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সাথে জড়িত, তাই এদের বিরুদ্ধে সমাজ থেকে প্রতিরোধ আসবে, প্রতিবাদ হবে। তখন সেই প্রতিরোধকে নেতিবাচকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে, যা দেশের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন বাংলাদেশে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। বরং এর প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের জন্য নতুন সংকট ডেকে আনবে। তাই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জাতিসংঘের দ্বিচারিতারও সমালোচনা করে বলেন, ফিলিস্তিনে নারী-শিশু হত্যায় তারা নীরব, রোহিঙ্গা সংকটেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশের মতো স্বাধীন রাষ্ট্রে ঢুকে সমাজের ভিত দুর্বল করতে তারা মরিয়া। জাতিসংঘের উচিত ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ করা, রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সত্যিকারের মানবাধিকার রক্ষা করা—নাকি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা।
বিবৃতির শেষে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে, সমাজ ও সংস্কৃতি রক্ষায় এই বিদেশি কার্যালয়ের অনুমতি বাতিল করতে হবে। এতে দেরি হলে ভবিষ্যতে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।































