ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে উত্তাল উত্তরাঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 134

‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে উত্তাল উত্তরাঞ্চল

তিস্তা নদী বাঁচাতে উত্তরাঞ্চলজুড়ে নতুন করে জেগে উঠেছে জনতার আন্দোলন। “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” স্লোগানে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় (লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একযোগে ১১টি স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি।

একই সময়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন আরও গতি পেয়েছে। আন্দোলনের সমন্বয়ক দুলু জানান, নদীর ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবাহ রক্ষার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

দুলু বলেন, “তিস্তা কেবল উত্তরবঙ্গের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। নদীর অববাহিকায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত শুরু করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা সমস্যা কোনো আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন উত্তরাঞ্চলের মানুষকে স্তব্ধ করে রেখেছিল, কিন্তু তাদের কান্না থামেনি।”

দুলুর ভাষায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরগতি ও নানা ষড়যন্ত্র দেখা যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা এই প্রকল্পের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত হবেন।”

তিনি সরকারকে নভেম্বর মাসের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, “জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরু করা জরুরি। সময়মতো কাজ না হলে রংপুর বিভাগে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চল অচল করে দেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে তিস্তার ভাঙন ও চর গঠনের ফলে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে, বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর অবহেলায় তিস্তার বুকে গড়ে উঠছে অসংখ্য চর, যা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে লালমনিরহাটে গণমিছিল, গণসমাবেশ, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা একযোগে স্লোগান দেন— “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই; তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই।”

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করছে যে তিস্তা এখন কেবল পরিবেশ বা অর্থনীতির ইস্যু নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। সরকার যদি এখনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই অঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য রাজধানীর দিকে লংমার্চ করতে বাধ্য হবে।”

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শামসুজ্জামান শামু, কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা প্রমুখ। পাঁচ জেলার বিএনপি, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে উত্তাল উত্তরাঞ্চল

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

তিস্তা নদী বাঁচাতে উত্তরাঞ্চলজুড়ে নতুন করে জেগে উঠেছে জনতার আন্দোলন। “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” স্লোগানে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় (লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একযোগে ১১টি স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি।

একই সময়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন আরও গতি পেয়েছে। আন্দোলনের সমন্বয়ক দুলু জানান, নদীর ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবাহ রক্ষার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

দুলু বলেন, “তিস্তা কেবল উত্তরবঙ্গের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। নদীর অববাহিকায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত শুরু করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা সমস্যা কোনো আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন উত্তরাঞ্চলের মানুষকে স্তব্ধ করে রেখেছিল, কিন্তু তাদের কান্না থামেনি।”

দুলুর ভাষায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরগতি ও নানা ষড়যন্ত্র দেখা যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা এই প্রকল্পের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত হবেন।”

তিনি সরকারকে নভেম্বর মাসের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, “জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরু করা জরুরি। সময়মতো কাজ না হলে রংপুর বিভাগে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চল অচল করে দেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে তিস্তার ভাঙন ও চর গঠনের ফলে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে, বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর অবহেলায় তিস্তার বুকে গড়ে উঠছে অসংখ্য চর, যা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে লালমনিরহাটে গণমিছিল, গণসমাবেশ, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা একযোগে স্লোগান দেন— “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই; তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই।”

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করছে যে তিস্তা এখন কেবল পরিবেশ বা অর্থনীতির ইস্যু নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। সরকার যদি এখনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই অঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য রাজধানীর দিকে লংমার্চ করতে বাধ্য হবে।”

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শামসুজ্জামান শামু, কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা প্রমুখ। পাঁচ জেলার বিএনপি, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন।