জাকসু নির্বাচন বর্জন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 493
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মাওলানা ভাসানী হলের গেস্টরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।
তিনি অভিযোগ করেন, “এই নির্বাচন শুরু থেকেই ছিল সাজানো ও পূর্বনির্ধারিত। ভোটার তালিকায় ছবি না থাকা, একাধিকবার ভোট প্রদান, এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া—এসব অনিয়মে নির্বাচন কমিশন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।”
এর আগে দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ সাদী হাসান অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি “জামায়াত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি” থেকে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন সংগ্রহ করেছে। তার ভাষায়, “এটি ছাত্রশিবিরকে বিজয়ী করার জন্য একটি পরিকল্পিত নীলনকশা।”
শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে ওএমআর গণনা বাদ দিয়ে হাতে হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নিলেও, বিতর্কিত কোম্পানির সরবরাহ করা ব্যালট ব্যবহারে তারা তীব্র আপত্তি জানান।
শেখ সাদী আরও দাবি করেন, শিবির আলাদাভাবে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট কারচুপির পরিকল্পনা করেছে এবং কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে ছাত্রদল প্যানেল নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের দিনে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশে বাধা এবং প্রার্থীদের কেন্দ্রে পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। এতে স্বাক্ষর করেন ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান, জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) প্রার্থী মো. সাজ্জাদউল ইসলাম।
অন্যদিকে, দুপুরে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ ও ছাত্রদল প্রার্থী শেখ সাদী হাসান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।
এ বছর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ চলে। মোট ভোটার সংখ্যা ১১,৭৪৭ জন। একজন ভোটারকে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে ৪০টি ব্যালটে ভোট দিতে হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট ৮টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছাত্রদল সমর্থিত পূর্ণাঙ্গ প্যানেল, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, বাগছাসের ‘সম্মিলিত ঐক্য ফোরাম’, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ ও ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ এবং তিনটি স্বতন্ত্র প্যানেল।
































