জয়-পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 79
জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)–এর নামে কর মওকুফ, অনুদান গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআরআই–এর চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় ও ট্রাস্টি সদস্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য রওশন আরা আক্তার, সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম. মোস্তফা কামাল।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪–এর ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত না থাকা সত্ত্বেও সিআরআই–কে কর মওকুফের সুযোগ দেন। জনকল্যাণের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে কর সুবিধা গ্রহণ করে এবং সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রভাব খাটিয়ে ও তদবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। সিআরআই–এর হিসাবে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা পড়ে। ২০১৩–১৪ অর্থবছর থেকে ২০২৩–২৪ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট অনিয়মিত আয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হলেও হিসাব মিলছে না ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার, যা দুদকের মতে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, সিআরআই–এর নামে পরিচালিত ২৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে—এর মধ্যে জমা ২৪৭ কোটি এবং উত্তোলন ১৯১ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া প্রায় ৩৬ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও আত্মসাতের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনায় দুদক দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারা, এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
































