চানখাঁরপুল হত্যা মামলায় ‘সীমিত সাজা’য় অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 7
জুলাই অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। কয়েকজন আসামিকে সীমিত সাজা দেওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সীমিত সাজা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সঙ্গত নয়।
তিনি বলেন, “আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার সময় কনস্টেবল সুজন গুলি চালানোর সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি ঊর্ধ্বতনের আদেশ পালন করছিলেন—এই যুক্তিতে আদালত তাকে কম সাজা দিয়েছেন। এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের মতে, এই মামলার রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। তিনি বলেন, কোনো বেআইনি নির্দেশ মানতে কেউ বাধ্য নন। বেআইনি আদেশ পালন করলে তার দায়ও বহন করতে হবে।
রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য দ্রুত আপিল দায়ের করা হবে। তাদের দাবি, এ মামলার মাধ্যমে বিচার ও জবাবদিহির একটি শক্ত নজির স্থাপন করা জরুরি।


































