গোপালগঞ্জে নিহত ৩ জনের মরদেহ উত্তোলন
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- / 145
ব্যাপক সমালোচনার পর গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত তিন জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে। তারা হলেন- সোহেল সিকদার, ইমন তালুকদার ও রমজান কাজী।
আদালতের নির্দেশ পেয়ে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ গেটপাড়াস্থ পৌর কবরস্থান থেকে দুইজনের এবং টুঙ্গিপাড়া থেকে একজনের লাশ উত্তোলন করা হয়।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দারের উপস্থিতিতে রমজান কাজী, ইমন তালুকদার ও ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীরের উপস্থিতিতে সোহেল রানার লাশ উত্তোলন করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া অপর দুইজনের মধ্যে দীপ্ত সাহার লাশ হিন্দু ধর্মীয় মতে সৎকার ও রমজান মুন্সীর লাশের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়।
গত ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র ‘মার্চ ফর গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচীর দিনে চতুরমুখী সংঘর্ষে স্থানীয় পাঁচজন নিহত হয়। অভিযোগ ওঠে, নিহতের পর তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই চার জনের লাশ কিছুটা গোপনে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ওই ঘটনার পর দফায় দফায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করা হয়। সেখানকার পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে; রাস্তায় জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্কে শুধু যুবকরাই নয়, বয়ষ্করাও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছে।
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কোনো নিরীহ শান্তি প্রিয় নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় শহরের বড়বাজার পৌর মার্কেটে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান। এ সময় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়েরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভা ভণ্ডুল করতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শত-শত নেতাকর্মী হামলা চালায়। পরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দিনভর চলা সংঘর্ষে ৫ যুবক নিহত ও পুলিশ সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ হত্যা মামলাসহ মোট ৮টি মামলা হয়েছে। এতে ৮ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩১০ জনকে। তাদের মধ্যে দুই শতাধিক আসামিকে বাইরের জেলার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


































