আসকের পর্যবেক্ষণ
গোপালগঞ্জে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
- / 541
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হতাহতের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির চার সদস্যের অনুসন্ধান দল ২১ ও ২২ জুলাই গোপালগঞ্জে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ২৫ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। আসক জানিয়েছে, সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার নেয়। এতে অন্তত ৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।

কী ঘটেছিল?
১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত এনসিপির পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এরপর এনসিপি নেতারা পুলিশ ও সেনা পাহারায় মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। গুলিতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), ইমন তালুকদার (১৭), সোহেল মোল্লা (৩২) এবং পরে হাসপাতালে মারা যাওয়া রমজান মুন্সী।
আসকের পর্যবেক্ষণ: আহতদের অনেকে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত নন; কেউ কেউ কর্মস্থলে যাবার পথে গুলিবিদ্ধ হন।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অভিযোগ রয়েছে, পরে পুলিশ তিনটি মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আসক। ‘নির্বিচারে গুলি’ চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

সংঘর্ষে ১৮ শিশুকে গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে, যাদের অনেককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক দেখানো হয়।
৮টি মামলায় মোট আসামি ৫৪০০ জন, যাদের মধ্যে ৩৫৮ জন নামীয়। নারী ও সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।
স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
কারাগারে হামলার কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘৮০ রাউন্ড মিসফায়ার’ হয়, পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আসক এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে এবং বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা নাগরিকদের মত প্রকাশ ও সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
সংস্থাটি বলেছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
































