ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ আগস্টের স্মৃতিচিহ্ন

গোটা দেশ যেন রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 470

জুলাই-আগস্ট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি ভয়াবহ মোড় নেয়। এই দিনটি শুধু একটি সংঘর্ষপূর্ণ দিনের স্মারক নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের এক বিস্ফোরক জবাব। রাজপথে একদিকে ছাত্রজনতা আর সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান রক্ষার মরিয়া চেষ্টা। এই মুখোমুখি অবস্থান গোটা দেশকে যেন মুহূর্তেই পরিণত করে রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্রে

জুলাই মাসের শেষ দুই সপ্তাহজুড়ে চলতে থাকা সহিংসতা, নিপীড়ন এবং মৃত্যুর অভিযোগে জাতি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। বেসরকারি, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল; সরকার কেন এত সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায় নিরুত্তর? গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো হাজার হাজার মানুষের নিখোঁজ, গ্রেপ্তার এবং গুমের অভিযোগ সামনে আনে। এসব ঘটনার জেরে ছাত্র সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করে।

এর মধ্যেই ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে এক দফা দাবি নিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্রনেতৃত্বাধীন জোট। তাদের সরাসরি দাবি; সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে পাল্টা কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রাজপথে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয় ‘যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার’ ক্ষমতা।

কোটবিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)
কোটবিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)

৪ আগস্ট ভোর হতেই রাজধানীর শাহবাগ মোড় ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক অবস্থান কর্মসূচি। জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয় বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, বামপন্থী সংগঠনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনের এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি, এরপর লাঠিচার্জ ও হাতাহাতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্যাস গ্রেনেড, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার অন্যান্য এলাকায়; মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সায়েন্স ল্যাব, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগরসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘর্ষ, অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের চিত্র দেখা যায়। সারা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে।

কোটা বিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)
কোটা বিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)

৪ আগস্টের প্রতিবাদ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের উত্তাপ। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ; প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এবং বেশ কয়েকটি জেলা শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ ও ছাত্রদের মুখোমুখি অবস্থানে পড়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয় যাত্রাবাড়ী এলাকায়। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। প্রগতি সরণির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ চালানো হয়।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোট হতাহতের সংখ্যা ৯৫ জনের বেশি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ। শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকটি জায়গায় গুম হওয়ার অভিযোগও উঠে আসে, যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি পরবর্তীতেও।

পরিস্থিতি যখন একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন রাত ৮টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি ঘোষণায় বলা হয়; পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ পাঁচটি বড় শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী তিন দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়, যাতে করে লোকজন ঘর থেকে বের না হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সেই রাতে বিভিন্ন এলাকায় র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবির টহল শুরু হয়। শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারনেট গতিও হ্রাস করা হয় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

৪ আগস্ট ২০২৪ কেবল একটি সংঘর্ষের দিন ছিল না; এটি ছিল একটি রাষ্ট্রের গনক্ষোভের প্রতীক। মানুষ তাদের ভয়, দুঃখ এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল রাস্তায় নেমে। এই দিনের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক আবহ বদলে যায়। অনেকের মতে, এটাই ছিল ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ নাগরিক প্রতিরোধের সূচনা।

সমাজবিজ্ঞানী, বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা একে তুলনা করছেন ১৯৬৯ বা ১৯৯০-এর গণআন্দোলনের সঙ্গে। অনেকেই বলছেন; এই দিনটি এক নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের ভিত্তিপ্রস্তর, যার ফলাফল হয়তো ভবিষ্যতে আরও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৪ আগস্টের স্মৃতিচিহ্ন

গোটা দেশ যেন রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি ভয়াবহ মোড় নেয়। এই দিনটি শুধু একটি সংঘর্ষপূর্ণ দিনের স্মারক নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের এক বিস্ফোরক জবাব। রাজপথে একদিকে ছাত্রজনতা আর সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান রক্ষার মরিয়া চেষ্টা। এই মুখোমুখি অবস্থান গোটা দেশকে যেন মুহূর্তেই পরিণত করে রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্রে

জুলাই মাসের শেষ দুই সপ্তাহজুড়ে চলতে থাকা সহিংসতা, নিপীড়ন এবং মৃত্যুর অভিযোগে জাতি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। বেসরকারি, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল; সরকার কেন এত সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায় নিরুত্তর? গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো হাজার হাজার মানুষের নিখোঁজ, গ্রেপ্তার এবং গুমের অভিযোগ সামনে আনে। এসব ঘটনার জেরে ছাত্র সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করে।

এর মধ্যেই ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে এক দফা দাবি নিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্রনেতৃত্বাধীন জোট। তাদের সরাসরি দাবি; সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে পাল্টা কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রাজপথে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয় ‘যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার’ ক্ষমতা।

কোটবিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)
কোটবিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)

৪ আগস্ট ভোর হতেই রাজধানীর শাহবাগ মোড় ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক অবস্থান কর্মসূচি। জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয় বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, বামপন্থী সংগঠনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনের এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি, এরপর লাঠিচার্জ ও হাতাহাতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্যাস গ্রেনেড, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার অন্যান্য এলাকায়; মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সায়েন্স ল্যাব, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগরসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘর্ষ, অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের চিত্র দেখা যায়। সারা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে।

কোটা বিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)
কোটা বিরোধী আন্দোলন (ফাইল ফটো)

৪ আগস্টের প্রতিবাদ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের উত্তাপ। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ; প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এবং বেশ কয়েকটি জেলা শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ ও ছাত্রদের মুখোমুখি অবস্থানে পড়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয় যাত্রাবাড়ী এলাকায়। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। প্রগতি সরণির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ চালানো হয়।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোট হতাহতের সংখ্যা ৯৫ জনের বেশি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ। শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকটি জায়গায় গুম হওয়ার অভিযোগও উঠে আসে, যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি পরবর্তীতেও।

পরিস্থিতি যখন একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন রাত ৮টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি ঘোষণায় বলা হয়; পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ পাঁচটি বড় শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী তিন দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়, যাতে করে লোকজন ঘর থেকে বের না হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সেই রাতে বিভিন্ন এলাকায় র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবির টহল শুরু হয়। শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারনেট গতিও হ্রাস করা হয় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

৪ আগস্ট ২০২৪ কেবল একটি সংঘর্ষের দিন ছিল না; এটি ছিল একটি রাষ্ট্রের গনক্ষোভের প্রতীক। মানুষ তাদের ভয়, দুঃখ এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল রাস্তায় নেমে। এই দিনের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক আবহ বদলে যায়। অনেকের মতে, এটাই ছিল ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ নাগরিক প্রতিরোধের সূচনা।

সমাজবিজ্ঞানী, বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা একে তুলনা করছেন ১৯৬৯ বা ১৯৯০-এর গণআন্দোলনের সঙ্গে। অনেকেই বলছেন; এই দিনটি এক নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের ভিত্তিপ্রস্তর, যার ফলাফল হয়তো ভবিষ্যতে আরও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।