গোটা জাতি লন্ডনের দিকে তাকিয়ে আছে: রিজভী
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 214
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন বৈঠক বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আশা ও সম্ভাবনার সুবাতাস বয়ে আনবে।
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, “গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই বৈঠক হবে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে আরও মজবুত করবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে এবং জাতি আশা করছে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটবে। আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, “বাংলাদেশের ওপর একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই তারা আগ্রাসী আচরণ দেখাচ্ছে। প্রতিদিন বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনা ঘটছে, যা একটি পরিকল্পিত উস্কানি।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নিজেদের নাগরিকদের ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে, দেশের জনগণ শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধও গড়ে তুলবে। ভারতকে মনে রাখতে হবে—দমন-পীড়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনাও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি।”
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ভারতে ইতোমধ্যেই ৭ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশেও একজনের মৃত্যুসহ সংক্রমণের খবর মিলেছে। সরকারকে অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদযাত্রায় দেশের সড়কে অন্তত ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বেপরোয়া গাড়ি চালনারই ফল। পাশাপাশি ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা গেছে। “যথাযথ তদারকি থাকলে এই প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো যেত,” বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজে নির্ভয়ে ঈদ উদযাপনই হতে পারে প্রকৃত আনন্দের উৎস। এজন্য দরকার একটি জবাবদিহিমূলক সরকার ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ প্রশাসন।”
































