ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তদন্তের মাঝেই দেশ ছাড়লেন এনবিআর সদস্য বেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 132

এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন) বেলাল হোসেন।

কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনুমতিবিহীন একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং লাগামহীন ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে চলছে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত। এমনকি দেয়া হয়েছিলো বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও। সব অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিদেশ যাত্রায় গিয়েছেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন) বেলাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। আর দেশ ছাড়ার পরপরই অভিযোগ ওঠে, দুদকের মামলায় আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশ ছেড়েছেন বেলাল হোসেন।

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিদেশ যাত্রারোধে আদালত কর্তৃক চলতি বছরের দুই ফেব্রুয়ারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তাকে বিদেশ গমনের অনুমতি দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহেও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, বেলাল হোসেন চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দেশ ছাড়লেন, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনুমতিবিহীন একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং লাগামহীন ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এই ঘটনায় দুদকের ভূমিকা এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একজন অভিযুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বেলাল হোসেন চৌধুরী একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া সফরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা জিও (সরকারি আদেশ) দেখিয়ে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেন, যদিও সেই জিওতে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়া সফরের উল্লেখ ছিল এবং তাতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কোনো অনুমতি ছিল না।

জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সফরের অর্থায়ন করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—স্টার টেক লি: (Star Tech Ltd), যার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এনবিআর নিজেই তদন্ত চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. রাশেদ আলী ভূঁইয়া সাবেক প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, অনুমতিবিহীন বিদেশ ভ্রমণ, বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, ঘুষ গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তদন্তের মাঝেই দেশ ছাড়লেন এনবিআর সদস্য বেলাল

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনুমতিবিহীন একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং লাগামহীন ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে চলছে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত। এমনকি দেয়া হয়েছিলো বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও। সব অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিদেশ যাত্রায় গিয়েছেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন) বেলাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। আর দেশ ছাড়ার পরপরই অভিযোগ ওঠে, দুদকের মামলায় আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশ ছেড়েছেন বেলাল হোসেন।

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিদেশ যাত্রারোধে আদালত কর্তৃক চলতি বছরের দুই ফেব্রুয়ারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তাকে বিদেশ গমনের অনুমতি দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহেও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, বেলাল হোসেন চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দেশ ছাড়লেন, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনুমতিবিহীন একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং লাগামহীন ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এই ঘটনায় দুদকের ভূমিকা এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একজন অভিযুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বেলাল হোসেন চৌধুরী একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া সফরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা জিও (সরকারি আদেশ) দেখিয়ে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেন, যদিও সেই জিওতে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়া সফরের উল্লেখ ছিল এবং তাতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কোনো অনুমতি ছিল না।

জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সফরের অর্থায়ন করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—স্টার টেক লি: (Star Tech Ltd), যার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এনবিআর নিজেই তদন্ত চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. রাশেদ আলী ভূঁইয়া সাবেক প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমসে স্বর্ণ চুরি, অনুমতিবিহীন বিদেশ ভ্রমণ, বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, ঘুষ গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।