ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাঁধার চামড়ায় ‘যৌবন’ ধরে রাখার টনিক!

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 2609

নিরীহ এই প্রানিটির চামড়ায় আছে ‘জিলাটিনই’

গাঁধা- নিরীহ এই প্রাণীটি বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৃষকের বোঝা বহন করে, ক্ষেতের কাজে সহযোগিতা করে, কখনো আবার বাজারে নিয়ে যায় উৎপাদিত পণ্য।

নিরীহ এই প্রানিটির চামড়ায় লুকিয়ে আছে ‘জিলাটিনই’ নামে এক মহামূল্যবান উপাদান। যা নিয়ে চীন তৈরি করছে সুস্বাস্থ্য ও যৌবন ধরে রাখার এক দামি ঔষুধ। ফলে এর চাহিদা এখন চীনে আকাশচুম্বী। এই ওষুধের নাম ‘ইজিয়াও।’

চীনের বাজারে ‘ইজিয়াও’ প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইজিয়াও প্রস্তুত করার জন্য গাঁধার চামড়া সিদ্ধ করে একটি জেলাটিন জাতীয় পদার্থ তৈরি করা হয়। এই পদার্থ মূলত ট্যাবলেট, পাউডার বা তরল আকারে বিক্রি হয়।

এই ঔষুধ যৌবন ধরে রাখা ছাড়াও রক্তসঞ্চালন বাড়ানো এবং রক্তাল্পতা দূর করতে সহায়ক বলে দাবি করা হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া চীনে এই ঔষুধ নারীদের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা কমানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

চীনে এই ঔষুধের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে গাঁধা চুরি। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে অবৈধভাবে গাঁধা শিকার এবং চামড়া পাচারের ঘটনা বাড়ছে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৫৯ লাখ গাঁধা অবৈধভাবে হত্যা করা হচ্ছে এই ঔষুধ তৈরিতে।

চীনের চাহিদা পূরণে ইথিওপিয়া, তানজানিয়া ও আইভোরি কোস্টে গাধা জবাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণের বিক্ষোভের কারণে অনেকগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান গাধা উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। চীনের ঐতিহাসিক বন্ধু রাষ্ট্রটি এই বাণিজ্য থেকে বড় আয় করতে চায়। ২০২০ সালে গাধার চামড়ার বৈশ্বিক বাণিজ্যের আকার দাঁড়ায় ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে দেশটিতে ১ কোটি ১০ লাখ গাধা ছিল। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ লাখে। ফলে চীন নিজেও গাধা উৎপাদনের দিকে নজর দিচ্ছে।

অন্যদিকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং ব্রাজিলের সরকার গাধার চামড়ার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেননা দেশগুলোতে দ্রুত হারে গাধার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। যা স্থানীয়দের কৃষি ও পরিবহনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ইজিয়াও উৎপাদনকে নিষ্ঠুর এবং অনৈতিক বলে সমালোচনা করেছে। তারা এই প্রক্রিয়ায় গাধার জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাঁধার চামড়ায় ‘যৌবন’ ধরে রাখার টনিক!

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

গাঁধা- নিরীহ এই প্রাণীটি বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৃষকের বোঝা বহন করে, ক্ষেতের কাজে সহযোগিতা করে, কখনো আবার বাজারে নিয়ে যায় উৎপাদিত পণ্য।

নিরীহ এই প্রানিটির চামড়ায় লুকিয়ে আছে ‘জিলাটিনই’ নামে এক মহামূল্যবান উপাদান। যা নিয়ে চীন তৈরি করছে সুস্বাস্থ্য ও যৌবন ধরে রাখার এক দামি ঔষুধ। ফলে এর চাহিদা এখন চীনে আকাশচুম্বী। এই ওষুধের নাম ‘ইজিয়াও।’

চীনের বাজারে ‘ইজিয়াও’ প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইজিয়াও প্রস্তুত করার জন্য গাঁধার চামড়া সিদ্ধ করে একটি জেলাটিন জাতীয় পদার্থ তৈরি করা হয়। এই পদার্থ মূলত ট্যাবলেট, পাউডার বা তরল আকারে বিক্রি হয়।

এই ঔষুধ যৌবন ধরে রাখা ছাড়াও রক্তসঞ্চালন বাড়ানো এবং রক্তাল্পতা দূর করতে সহায়ক বলে দাবি করা হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া চীনে এই ঔষুধ নারীদের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা কমানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

চীনে এই ঔষুধের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে গাঁধা চুরি। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে অবৈধভাবে গাঁধা শিকার এবং চামড়া পাচারের ঘটনা বাড়ছে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৫৯ লাখ গাঁধা অবৈধভাবে হত্যা করা হচ্ছে এই ঔষুধ তৈরিতে।

চীনের চাহিদা পূরণে ইথিওপিয়া, তানজানিয়া ও আইভোরি কোস্টে গাধা জবাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণের বিক্ষোভের কারণে অনেকগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান গাধা উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। চীনের ঐতিহাসিক বন্ধু রাষ্ট্রটি এই বাণিজ্য থেকে বড় আয় করতে চায়। ২০২০ সালে গাধার চামড়ার বৈশ্বিক বাণিজ্যের আকার দাঁড়ায় ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে দেশটিতে ১ কোটি ১০ লাখ গাধা ছিল। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ লাখে। ফলে চীন নিজেও গাধা উৎপাদনের দিকে নজর দিচ্ছে।

অন্যদিকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং ব্রাজিলের সরকার গাধার চামড়ার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেননা দেশগুলোতে দ্রুত হারে গাধার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। যা স্থানীয়দের কৃষি ও পরিবহনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ইজিয়াও উৎপাদনকে নিষ্ঠুর এবং অনৈতিক বলে সমালোচনা করেছে। তারা এই প্রক্রিয়ায় গাধার জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরছে।