ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র

গলে ড্র-তেই বাজল সাহসের বীণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • / 194

গলে ড্র-তেই বাজল সাহসের বীণ

গল টেস্টে জয় একেবারে ধরা দেয়নি, তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে ড্র করাটাও বাংলাদেশের জন্য একরকম অর্জন। প্রায় আট বছর পর লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল টাইগাররা, কিন্তু শেষ দিনে প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টির কারণে সেই সম্ভাবনায় জল পড়ে যায়।

চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ যে অবস্থানে ছিল, তাতে অনেকেই আশা করছিলেন ঐতিহাসিক জয়। তবে পঞ্চম দিনের খেলা দেরিতে শুরু হওয়ায় বোলারদের হাতে সময় কম পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ৭২ রান তুলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচটিকে ড্র করে নেয়।

ম্যাচ শেষে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশ যদি দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ রানে ইনিংস ঘোষণা করত, তাহলে কী জয় সম্ভব ছিল? কিংবা ব্যাটাররা আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেললে কি ফল ভিন্ন হতে পারত? তবে এসব প্রশ্নের মাঝেও এই ড্রকেও ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে।

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা সিরিজ হারের পর জাতীয় দল চাপে ছিল। সেখানে বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাঁচ দিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে ড্র করা আত্মবিশ্বাসের বড় পুনরুদ্ধার।

এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র। শুরুটা জয় দিয়ে না হলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দাপট দেখান মুশফিকুর রহিম (১৬৩) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (১৪৮)। তাদের দুর্দান্ত ইনিংস ও লিটন দাসের লড়াকু ৯০ রানে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ৪৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ।

জবাবে শ্রীলঙ্কা শক্ত জবাব দেয়। পাথুম নিসাঙ্কার ১৮৭ রানের ইনিংস ও কামিন্দু মেন্ডিসের ৮৭ রানে তারা পৌঁছে যায় ৪৮৫ রানে। নাঈম হাসান ৫ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন।

গাভাস্কার-ইনজি-কোহেলির পাশে শান্ত
গাভাস্কার-ইনজি-কোহেলির পাশে শান্ত

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১০ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামে। ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৭৬ রান এবং অধিনায়ক শান্ত করেন আরও একটি সেঞ্চুরি (১২৫)। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের সামনে ২৯৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।

শেষ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে চাপে ফেলেছিলেন তাইজুল ইসলাম, ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময় ফুরিয়ে আসে, আর ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচ। ড্র-তেই বাজল টাইগারদের সাহসের বীণ

সবমিলিয়ে, জয় না এলেও বিদেশের মাটিতে এমন একটি শক্ত লড়াই নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র

গলে ড্র-তেই বাজল সাহসের বীণ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

গল টেস্টে জয় একেবারে ধরা দেয়নি, তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে ড্র করাটাও বাংলাদেশের জন্য একরকম অর্জন। প্রায় আট বছর পর লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল টাইগাররা, কিন্তু শেষ দিনে প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টির কারণে সেই সম্ভাবনায় জল পড়ে যায়।

চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ যে অবস্থানে ছিল, তাতে অনেকেই আশা করছিলেন ঐতিহাসিক জয়। তবে পঞ্চম দিনের খেলা দেরিতে শুরু হওয়ায় বোলারদের হাতে সময় কম পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ৭২ রান তুলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচটিকে ড্র করে নেয়।

ম্যাচ শেষে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশ যদি দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ রানে ইনিংস ঘোষণা করত, তাহলে কী জয় সম্ভব ছিল? কিংবা ব্যাটাররা আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেললে কি ফল ভিন্ন হতে পারত? তবে এসব প্রশ্নের মাঝেও এই ড্রকেও ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে।

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা সিরিজ হারের পর জাতীয় দল চাপে ছিল। সেখানে বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাঁচ দিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে ড্র করা আত্মবিশ্বাসের বড় পুনরুদ্ধার।

এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র। শুরুটা জয় দিয়ে না হলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দাপট দেখান মুশফিকুর রহিম (১৬৩) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (১৪৮)। তাদের দুর্দান্ত ইনিংস ও লিটন দাসের লড়াকু ৯০ রানে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ৪৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ।

জবাবে শ্রীলঙ্কা শক্ত জবাব দেয়। পাথুম নিসাঙ্কার ১৮৭ রানের ইনিংস ও কামিন্দু মেন্ডিসের ৮৭ রানে তারা পৌঁছে যায় ৪৮৫ রানে। নাঈম হাসান ৫ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন।

গাভাস্কার-ইনজি-কোহেলির পাশে শান্ত
গাভাস্কার-ইনজি-কোহেলির পাশে শান্ত

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১০ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামে। ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৭৬ রান এবং অধিনায়ক শান্ত করেন আরও একটি সেঞ্চুরি (১২৫)। শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের সামনে ২৯৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।

শেষ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে চাপে ফেলেছিলেন তাইজুল ইসলাম, ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময় ফুরিয়ে আসে, আর ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচ। ড্র-তেই বাজল টাইগারদের সাহসের বীণ

সবমিলিয়ে, জয় না এলেও বিদেশের মাটিতে এমন একটি শক্ত লড়াই নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।