খেলাপি ঋণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে তিন কারণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 97
শুধু সরকারি হিসাব অনুযায়ী নয়, বাস্তবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। জুন মাসের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা হঠাৎ ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ার মূল তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন।
প্রথমত, শেখ হাসিনার সময় বহু নামে-বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছিল যা গোপন রাখা হয়েছিল। এখন সেই ঋণসমূহ প্রকাশ হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত অনুযায়ী খেলাপি ঘোষণা করার সময়সীমা আগের ছয় মাস থেকে কমিয়ে তিন মাস করা হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তৃতীয়ত, কৃষি ও এসএমই ঋণে আগে যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঘোষণায় ছাড় দেওয়া হতো, তা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির সংখ্যা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ ধরনের ঋণ খেলাপির সংখ্যা তিন হাজার ৪৮৩ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, না হলে ব্যাংক খাতে আরও ধস নামতে পারে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম জানান, এই ঋণগুলো বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশে ফেরার আশা নেই। তিনি দ্রুত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ গঠন করে তাদের বিচারের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র তথ্য নয়, ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


































