ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলছে সেন্টমার্টিন, মানতে হবে ১২ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 137

সেন্টমার্টিন। ফাইল ছবি

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার পর্যটকদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে সরকারের নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা।

প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত জাহাজে করে সেন্ট মার্টিনে যাওয়া যাবে। আইনগত বিধিনিষেধের কারণে উখিয়ার ইনানী থেকে যাত্রা করার অনুমতি থাকবে না।

গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রতিবেশ রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিনে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত আকারে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটককে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

দ্বীপের নাজুক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধনও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দ্বীপে পলিথিন বহন করা যাবে না, এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল—নেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খুলছে সেন্টমার্টিন, মানতে হবে ১২ নির্দেশনা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার পর্যটকদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে সরকারের নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা।

প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত জাহাজে করে সেন্ট মার্টিনে যাওয়া যাবে। আইনগত বিধিনিষেধের কারণে উখিয়ার ইনানী থেকে যাত্রা করার অনুমতি থাকবে না।

গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রতিবেশ রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিনে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত আকারে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটককে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

দ্বীপের নাজুক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধনও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দ্বীপে পলিথিন বহন করা যাবে না, এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল—নেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠবে।