ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুমেকে রোগীর অক্সিজেন খুলে নেওয়ায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 133

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে বকশিশ না পেয়ে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে এক মুমূর্ষু রোগী শেখ সাইফুল ইসলাম (৩৮) মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রোববার সকালে ঘটে বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় রোগীর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মৃত সাইফুল খুলনার খান জাহান আলী থানার যোগিপোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শেখ ইসমাইলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিডনি জটিলতা নিয়ে শনিবার সকালে সাইফুলকে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-১-এর ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ আছে, এখানে কোন রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন কিনা তা নির্ধারণ করতেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রোববার সকাল ৮টায় অক্সিজেন খুলে নেওয়ার পরপরই রোগীর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ভর্তির পর সন্ধ্যায় সাইফুলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অক্সিজেনের জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে একজন ওয়ার্ডবয়কে টাকা দিয়ে অক্সিজেন ম্যানেজ করা হয়। কিন্তু রোববার সকালে আরেকজন ক্লিনার জব্বার ওই অক্সিজেন খুলে নিয়ে যায়। রোগীর স্বজন বাধা দিলে ক্লিনার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অক্সিজেন খুলে নেওয়ার ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কিডনিজনিত সমস্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। রাতে অনেক চেষ্টার পর অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু সকালে ওয়ার্ড ক্লিনার জব্বার তা অন্য রোগীর জন্য নিয়ে যান।”

ওয়ার্ড ক্লিনার জব্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য তাদের কাছে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে যাই।” তবে চিকিৎসক বা কর্তৃপক্ষ ছাড়াই অক্সিজেন নেওয়া ও অন্য রোগীর কাছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

খুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থলে ব্যস্ত থাকার কারণে কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, “হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। মুমূর্ষু রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া বা নেওয়া ক্লিনারের কাজ নয়। রোগীর অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা ডাক্তারই নির্ধারণ করবেন। যদি ওয়ার্ড ক্লিনার অনুমতি ছাড়া অক্সিজেন খুলে নিয়ে থাকেন, তবে এটি অপরাধ এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খুমেকে রোগীর অক্সিজেন খুলে নেওয়ায় মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে বকশিশ না পেয়ে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে এক মুমূর্ষু রোগী শেখ সাইফুল ইসলাম (৩৮) মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রোববার সকালে ঘটে বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় রোগীর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মৃত সাইফুল খুলনার খান জাহান আলী থানার যোগিপোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শেখ ইসমাইলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিডনি জটিলতা নিয়ে শনিবার সকালে সাইফুলকে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-১-এর ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ আছে, এখানে কোন রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন কিনা তা নির্ধারণ করতেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রোববার সকাল ৮টায় অক্সিজেন খুলে নেওয়ার পরপরই রোগীর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ভর্তির পর সন্ধ্যায় সাইফুলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অক্সিজেনের জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে একজন ওয়ার্ডবয়কে টাকা দিয়ে অক্সিজেন ম্যানেজ করা হয়। কিন্তু রোববার সকালে আরেকজন ক্লিনার জব্বার ওই অক্সিজেন খুলে নিয়ে যায়। রোগীর স্বজন বাধা দিলে ক্লিনার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অক্সিজেন খুলে নেওয়ার ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কিডনিজনিত সমস্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। রাতে অনেক চেষ্টার পর অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু সকালে ওয়ার্ড ক্লিনার জব্বার তা অন্য রোগীর জন্য নিয়ে যান।”

ওয়ার্ড ক্লিনার জব্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য তাদের কাছে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে যাই।” তবে চিকিৎসক বা কর্তৃপক্ষ ছাড়াই অক্সিজেন নেওয়া ও অন্য রোগীর কাছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

খুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থলে ব্যস্ত থাকার কারণে কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, “হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। মুমূর্ষু রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া বা নেওয়া ক্লিনারের কাজ নয়। রোগীর অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা ডাক্তারই নির্ধারণ করবেন। যদি ওয়ার্ড ক্লিনার অনুমতি ছাড়া অক্সিজেন খুলে নিয়ে থাকেন, তবে এটি অপরাধ এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”