খায়রুল হকের গ্রেপ্তার বিচার নয়, প্রতিশোধ: ডেভিড বার্গম্যান
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / 238
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিকীকরণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গবেষক ডেভিড বার্গম্যান। তিনি একে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় “চরম রাজনৈতিকীকরণের” স্পষ্ট উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন।
২৬ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে বার্গম্যান বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং তাকে আটক করে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া এবং বিচারিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।
বার্গম্যান বলেন, সরকার হয়তো এ ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সরাসরি জড়িত, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন বিচারপতির একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত, তা যত বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় হোক ; কীভাবে একটি ফৌজদারি মামলার ভিত্তি হতে পারে?”
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে এক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম নিহত হন। এই ঘটনার জেরে যে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, তাতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককেও আসামি করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ জুলাই তাকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়।
ডেভিড বার্গম্যান দাবি করেন, খায়রুল হকের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই এবং তাকে আটক করা হয়েছে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। তার মতে, এটি ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল-সংক্রান্ত খায়রুল হকের দেয়া ঐতিহাসিক রায়ের ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বার্গম্যান লিখেছেন, “যারা এই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব বিচারক এতে সহযোগিতা করেছেন, তারা সবাই জানেন — এই মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্রমাণ নেই, ভবিষ্যতেও তা পাওয়া যাবে না।”
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ঘটনা বিচারপতিদের স্বাধীনতায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তার ভাষায়, “বিচারিক মত অজনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু সেটি অপরাধে পরিণত করা আইনের শাসনের জন্য হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, বিচারপতিদের দুর্নীতি বা অন্য অপরাধে দায়ী করা যেতে পারে, তবে এই মামলায় সে ধরনের কোনো প্রমাণ নেই। তিনি মনে করেন, বিচারিক মতামতের কারণে একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অভিযুক্ত করা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
বার্গম্যান আহ্বান জানান, সরকার যদি জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক বা জনগণের আস্থার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে চায়, তাহলে অবিলম্বে খায়রুল হককে মুক্তি দিতে হবে।
এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক খালেদ হাসান আদালতে উল্লেখ করেন, খায়রুল হক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। তিনি দাবি করেন, জামিন দিলে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
































