গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ
খাবারের খোঁজে গুলিতে প্রাণ গেল শতাধিক মানুষের
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৩:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 98
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চরম খাদ্যসংকটের মুখে পড়া সাধারণ মানুষ যখন বেঁচে থাকার তাগিদে খাবারের সন্ধানে বের হচ্ছেন, তখন তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত দুই দিনে শুধু খাদ্য সংগ্রহের সময়ই প্রাণ হারিয়েছেন ১০০ জনের বেশি এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) শুক্রবার জানায়, এই ঘটনা মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কার্যালয়ের সহকারী মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, “খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ যেন প্রাণ হারায়, এমন অবস্থাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যায় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় কর্তব্য।”
তিনি জানান, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র কিংবা ত্রাণবাহী গাড়িবহরের পাশে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজায় টানা কয়েক মাস ধরে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে। জীবন রক্ষাকারী এসব সামগ্রী সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।
ফারহান হক বলেন, “আমাদের সহায়তা দলগুলোকে নিরাপদ ও বাধাবিহীন প্রবেশাধিকার দিতে হবে। মানুষ যেন সম্মানজনকভাবে সহায়তা পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।”

ওচা আরও জানায়, গাজায় প্রবেশকারী মানবিক সহায়তার পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল। বরং ইসরায়েলি বাহিনী যেসব রুট নির্ধারণ করেছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি, যানজট কিংবা একেবারেই চলাচলের অযোগ্যতা।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার ৩০০ জন ফিলিস্তিনি; যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজা অঞ্চলের অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে এবং এলাকাটি পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগের মঞ্চে।
































