ভয়াবহ মানবিক সংকট
খাদ্য না পেয়ে মরছে গাজাবাসী, বিশ্ব নিশ্চুপ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
- / 202
গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে। একদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে খাদ্যের চরম ঘাটতিতে নিরীহ মানুষের মৃত্যুর মিছিল। বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপকরণটুকুও এখন আর হাতে নেই বহু গাজাবাসীর। জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মৃত্যুর পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা ও খাদ্যাভাবে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে শিশুসহ সাধারণ মানুষ।
৭১ জনের প্রাণহানি, খাদ্য না পেয়ে মৃত্যু ৫ জনের
শনিবার (২৬ জুলাই) গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন, যাদের ৪২ জনই ছিলেন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় থাকা নিরীহ মানুষ। এর ঠিক একদিন পর, রোববার (২৭ জুলাই) আবারও ইসরায়েল ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। একই সময়ে পুষ্টিহীনতা ও চরমভাবে খাদ্য না পেয়ে পাঁচজন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে, মারা গেছেন।
জাতিসংঘের উদ্বেগ: পরিসংখ্যানে ভয়ংকর মানবিক ক্ষয়ক্ষতি
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাবে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৯,৭৩৩ জন, আহত হয়েছেন ১,৪৪,৪৭৭ জন। এ সংখ্যা শুধু বোমা ও গোলাবর্ষণের ফল নয়, অপুষ্টি, চিকিৎসাহীনতা এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতিও ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে।

অবরোধ ভাঙার চেষ্টা: ফ্লোটিলা আটকে ২১ জন গ্রেপ্তার
গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’-র একটি জাহাজ হান্দালা আটক করেছে ইসরায়েল। জাহাজটির ২১ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ জাহাজটি অবরুদ্ধ গাজার দিকে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতিসংঘের বক্তব্য: ত্রাণ বিতরণ প্রহসন
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, “গাজার মানুষ এখন ক্ষুধায় মরছে। যেসব ত্রাণ ইসরায়েল বিমান থেকে ফেলছে, তা এক রকম প্রহসন মাত্র। স্থলপথ খুলে না দিলে খাদ্য, ওষুধ কিছুই প্রবেশ করতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, “এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক নির্মম খেলা।”
যুদ্ধের সূত্রপাত: হামাস হামলা ও ইসরায়েলি প্রতিশোধ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায়, যাতে ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং ২০০ জনের বেশি ইসরায়েলি জিম্মি করা হয়। এর পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় টানা বিমান হামলা, অবরোধ এবং অব্যাহত আগ্রাসন চালিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নিন্দা আছে, কার্যকর হস্তক্ষেপ নেই
বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংস্থা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করা হয়নি। বরং রাফা সীমান্ত, খাদ্যবাহী গাড়ি ও ওষুধবাহী ট্রাক আটকে রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের অভাবে গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
গাজায় এখন যা ঘটছে, তা শুধু যুদ্ধ নয়, মানবতার বিরুদ্ধে এক নিষ্ঠুর নির্যাতন। ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শিশুদের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা; এটাই এখন গাজার সবচেয়ে জরুরি যুদ্ধক্ষেত্র। এই সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবিলম্বে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: আলজাজিরা
































