ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আমদানির ঘোষণা দিতেই

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমলো ৪০ টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 54

সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই—এই দুই পাইকারি বাজারে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ কমে গেছে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ আসা এবং ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়ার সরকারি ঘোষণাই দামের এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার যে পেঁয়াজ ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, রোববার সেটির দাম নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ৭৫–৯০ টাকায়। অন্যদিকে নতুন মেহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে ৭০–৮৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স আল মুনিরিয়া ট্রেডার্সের ম্যানেজার আবদুল আজিজ জানান, ভারত থেকে আমদানির অনুমতির সংবাদ রাতের মধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সকালেই সব গুদামে দাম কমে যায়। শনিবার ১৩০ টাকায় যে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন, পরদিন সেটি ৯০ টাকায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে মেসার্স এ এইচ ট্রেডার্সের ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাতের ভাষায়, এখনো আমদানিকৃত কোনো পেঁয়াজ দেশে ঢোকেনি, তবু শুধুমাত্র আইপি ঘোষণার কারণেই বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ রোববার নেমেছে ৭৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বছরে স্থানীয় পেঁয়াজেই দেশের চাহিদা পূর্ণ হয়েছে। সরবরাহেও ঘাটতি ছিল না। ফলে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন, একই সঙ্গে আমদানি না হওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচিয়েছে দেশ। তবে মৌসুমের শেষে হঠাৎ দাম বাড়ার পেছনে ‘অতিরিক্ত লাভের প্রতি কৃষকদের ঝোঁক’কেই দায়ী করছেন বেশ কয়েকজন আড়তদার।

মধ্যম চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, কৃষকরা যেহেতু পুরো মৌসুমে ভালো দাম পেয়েছেন, শেষ দিকে আরও বেশি লাভের আশায় দাম চড়িয়েছেন। এ কারণে পাইকারি বাজারে মোটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৩০–১৪০ টাকায় উঠে যায়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়ায় সরকার আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়; আর এ ঘোষণার পরই প্রতি বস্তায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

রোববার সকালে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মৌসুমের মেহেরপুরি বড় দানার পেঁয়াজও বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এতে সরবরাহ আরও বাড়ছে এবং আগামী কয়েকদিনে দাম আরও কমতে পারে বলে ধারণা আড়তদারদের।

বছরে বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩২ লাখ টন। কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও সংরক্ষণের অভাবে ৩০–৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেত।

নতুন ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন ব্যবহারের কারণে এবার পচনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—৫ শতাংশের নিচে নেমেছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। এতে সারা বছর স্থানীয় পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল এবং বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

বছরভিত্তিক পেঁয়াজ উৎপাদন

২০২২–২৩: ২ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন ৩৪.১৬ লাখ টন

২০২৩–২৪: ২ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৩৭.৮৯ লাখ টন

২০২৪–২৫: ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৪২.৫০ লাখ টন

২০২৫–২৬ (লক্ষ্যমাত্রা): ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৪২.৬৪ লাখ টন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস. এম. সোহরাব উদ্দিন জানান, উৎপাদন সবসময়ই চাহিদার বেশি হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে বড় অংশ নষ্ট হয়ে যেত। এবার নতুন প্রযুক্তি সরবরাহের কারণে পচন কমেছে, ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়নি। বহু কৃষকের হাতে এখনো আগের পেঁয়াজও রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আমদানির ঘোষণা দিতেই

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমলো ৪০ টাকা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই—এই দুই পাইকারি বাজারে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ কমে গেছে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ আসা এবং ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়ার সরকারি ঘোষণাই দামের এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার যে পেঁয়াজ ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, রোববার সেটির দাম নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ৭৫–৯০ টাকায়। অন্যদিকে নতুন মেহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে ৭০–৮৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স আল মুনিরিয়া ট্রেডার্সের ম্যানেজার আবদুল আজিজ জানান, ভারত থেকে আমদানির অনুমতির সংবাদ রাতের মধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সকালেই সব গুদামে দাম কমে যায়। শনিবার ১৩০ টাকায় যে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন, পরদিন সেটি ৯০ টাকায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে মেসার্স এ এইচ ট্রেডার্সের ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাতের ভাষায়, এখনো আমদানিকৃত কোনো পেঁয়াজ দেশে ঢোকেনি, তবু শুধুমাত্র আইপি ঘোষণার কারণেই বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ রোববার নেমেছে ৭৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বছরে স্থানীয় পেঁয়াজেই দেশের চাহিদা পূর্ণ হয়েছে। সরবরাহেও ঘাটতি ছিল না। ফলে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন, একই সঙ্গে আমদানি না হওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচিয়েছে দেশ। তবে মৌসুমের শেষে হঠাৎ দাম বাড়ার পেছনে ‘অতিরিক্ত লাভের প্রতি কৃষকদের ঝোঁক’কেই দায়ী করছেন বেশ কয়েকজন আড়তদার।

মধ্যম চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, কৃষকরা যেহেতু পুরো মৌসুমে ভালো দাম পেয়েছেন, শেষ দিকে আরও বেশি লাভের আশায় দাম চড়িয়েছেন। এ কারণে পাইকারি বাজারে মোটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৩০–১৪০ টাকায় উঠে যায়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়ায় সরকার আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়; আর এ ঘোষণার পরই প্রতি বস্তায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

রোববার সকালে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মৌসুমের মেহেরপুরি বড় দানার পেঁয়াজও বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এতে সরবরাহ আরও বাড়ছে এবং আগামী কয়েকদিনে দাম আরও কমতে পারে বলে ধারণা আড়তদারদের।

বছরে বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩২ লাখ টন। কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও সংরক্ষণের অভাবে ৩০–৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেত।

নতুন ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন ব্যবহারের কারণে এবার পচনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—৫ শতাংশের নিচে নেমেছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। এতে সারা বছর স্থানীয় পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল এবং বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

বছরভিত্তিক পেঁয়াজ উৎপাদন

২০২২–২৩: ২ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন ৩৪.১৬ লাখ টন

২০২৩–২৪: ২ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৩৭.৮৯ লাখ টন

২০২৪–২৫: ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৪২.৫০ লাখ টন

২০২৫–২৬ (লক্ষ্যমাত্রা): ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টরে উৎপাদন ৪২.৬৪ লাখ টন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস. এম. সোহরাব উদ্দিন জানান, উৎপাদন সবসময়ই চাহিদার বেশি হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে বড় অংশ নষ্ট হয়ে যেত। এবার নতুন প্রযুক্তি সরবরাহের কারণে পচন কমেছে, ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়নি। বহু কৃষকের হাতে এখনো আগের পেঁয়াজও রয়েছে।