কেন দূরে সরে গিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
- / 334
৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যে কয়েকজন মৃদুভাষী, সৎ ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ ছিলেন; তাদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র। ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে সামরিক শাসনের সংকট থেকে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং ধৈর্যশীল নেতৃত্বের জন্য পরিচিত সৈয়দ আশরাফ চারবার কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সময় সৈয়দ আশরাফের বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। সেই ঘটনার পরেই যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। ফেরেন দীর্ঘ ২০ বছর পর।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর সেখানে নিয়মিত ছিলেন না তিনি। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, দলের দুর্নীতিবাজদের অন্যায্য আবদার থেকে রক্ষা পেতে তিনি মন্ত্রণালয়ে খুব বেশি সময় দিতেন না। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে তার যোগাযোগও সীমিত করে ফেলেন। আর এ নিয়ে ওই অংশটি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কান ভারি করতে থাকেন।
২০১৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয় তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্য দলের সিনিয়র নেতারা সৈয়দ আশরাফকে দায়ী করতে থাকেন। এর পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।
সৈয়দ আশরাফ চেয়েছিলেন নির্বাচিত মেয়রদের দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হোক, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কারণে তিনি ক্রমশ একঘরে হয়ে যান। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সাথে আলোচনার সময় সৈয়দ আশরাফ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে শুধু সৈয়দ আশরাফই এ বিষয়ে সম্মত ছিলেন। এ বিষয়ে তার যুক্তি ছিল, বিএনপির মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। বিষয়টি তিনি শেখ হাসিনাকেও জানিয়েছিলেন। এতে শেখ হাসিনা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। আর তাতে মদদ দেয় দলের একটি অংশ।
২০১৫ সালে আকস্মিকভাবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেও দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় ওবায়দুল কাদেরকে। এরপর থেকে তিনি রাজনৈতিকভাবে অনেকটা নীরব হয়ে যান।
২০১৭ সালে স্ত্রী শীলা আহমেদের মৃত্যু সৈয়দ আশরাফের জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। তার শারীরিক অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
































