ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে রাতভর নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 98

কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে রাতভর নির্যাতন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের তারাপুর বাজারে চুরির সন্দেহে দুই কিশোরকে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে। রোববার রাত ২টা থেকে সোমবার ফজরের আজান পর্যন্ত চলে এ নির্যাতন। পরে সকালে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে তাদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক কিশোরের মায়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর বাজারের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের দোকান থেকে কিছু টাকা ও পণ্য খোয়া যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে আজাদ ও তার সহযোগীরা রাতে দুই কিশোরকে ফোনে ডেকে এনে দোকানে আটক করেন এবং কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন।

একপর্যায়ে কিশোরদের কাছ থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের পর সোমবার সকালে বাজারের পাশের এক করাতকলে সালিশ বসানো হয়। সেখানে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বিশ্বাসের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। এক কিশোরের মা ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্যাতনের ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে এক কিশোরের হাত-মুখ চেপে ধরে লাঠি দিয়ে মারধর করছে, আর সে ‘ও মা গো, আমি কিছু করিনি’ বলে চিৎকার করছে।

ভুক্তভোগী কিশোরদের বয়স ১৭ বছর। তারা সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। তাদের পরিবারের দাবি, ছেলেরা নির্দোষ, কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে।

নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, দাদি মারা যাওয়ার খবর শুনে দোকান বন্ধ করে গেলে রাতে ফিরে দেখেন পেছনের দরজা খোলা ও ড্রয়ার থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ও কিছু পণ্য হারিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে দুই কিশোরকে ডেকে আনেন। তার দাবি, ভিড় জমে গেলে লোকজনই তাদের মারধর করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, ‘গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কিশোরদের আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসে। আমি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিই, সালিশ করিনি।’

কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে রাতভর নির্যাতন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের তারাপুর বাজারে চুরির সন্দেহে দুই কিশোরকে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে। রোববার রাত ২টা থেকে সোমবার ফজরের আজান পর্যন্ত চলে এ নির্যাতন। পরে সকালে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে তাদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক কিশোরের মায়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর বাজারের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের দোকান থেকে কিছু টাকা ও পণ্য খোয়া যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে আজাদ ও তার সহযোগীরা রাতে দুই কিশোরকে ফোনে ডেকে এনে দোকানে আটক করেন এবং কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন।

একপর্যায়ে কিশোরদের কাছ থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের পর সোমবার সকালে বাজারের পাশের এক করাতকলে সালিশ বসানো হয়। সেখানে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বিশ্বাসের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। এক কিশোরের মা ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্যাতনের ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে এক কিশোরের হাত-মুখ চেপে ধরে লাঠি দিয়ে মারধর করছে, আর সে ‘ও মা গো, আমি কিছু করিনি’ বলে চিৎকার করছে।

ভুক্তভোগী কিশোরদের বয়স ১৭ বছর। তারা সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। তাদের পরিবারের দাবি, ছেলেরা নির্দোষ, কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে।

নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, দাদি মারা যাওয়ার খবর শুনে দোকান বন্ধ করে গেলে রাতে ফিরে দেখেন পেছনের দরজা খোলা ও ড্রয়ার থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ও কিছু পণ্য হারিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে দুই কিশোরকে ডেকে আনেন। তার দাবি, ভিড় জমে গেলে লোকজনই তাদের মারধর করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, ‘গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কিশোরদের আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসে। আমি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিই, সালিশ করিনি।’

কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।