নির্বাচনী এলাকায় পরিবর্তনে
কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / 177
নির্বাচনী এলাকায় পরিবর্তনের কারণে কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আসনের ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতা অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরোধিতার পরেও হোমনা ও তিতাসের মানুষ এখন পর্যন্ত আস্থা রাখছেন শিক্ষক নেতা অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার প্রতি।
আগে কুমিল্লা-২ আসনটি হোমনা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল, আর কুমিল্লা-১ আসন ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে। অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার জন্মস্থান মেঘনা হওয়ায় আসনটি তার জন্য একরকম নিশ্চিত মনে করা হচ্ছিল।
অভিযোগ উঠেছে যে, অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের সহায়তায় আসন পরিবর্তন করান। এই পরিবর্তনে মেঘনা উপজেলা দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত হয়, আর হোমনা উপজেলা তিতাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমান কুমিল্লা-২ আসন (হোমনা-তিতাস) গঠিত হয়। হোমনার একজন অধ্যাপক আব্দুল গনি বলেন, “স্থানীয় জনগণের তোয়াক্কা না করেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সেলিম ভুঁইয়াকে বাধা দিতে এই ভৌগোলিক পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে হোমনা ও তিতাসে অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার দীর্ঘ সময়ের সংযোগ এবং জনপ্রিয়তা থাকার কারণে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি ঢাকায় বিএনপির পক্ষে প্রায় দুই লক্ষ শিক্ষকের মহাসমাবেশও করেন। অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক মোশাররফ নিজ সন্তানকে এমপি বানানোর চেষ্টা করছেন। মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, বিএনপিতে একই পরিবারে একাধিক প্রার্থী করা যাবে না, তাই এম এ মতিনকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, হোমনায় সেলিম ভুঁইয়া পরিচিত এবং যোগ্য নেতা হওয়ায় জামায়াতপন্থী প্রার্থীর অর্থের জবাবে তিনি ভোটে জয়ী হতে পারেন। অপরিচিত বা অরাজনৈতিক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করলে আসন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ফোন ধরেননি। এম এ মতিন জানিয়েছেন, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো মন্তব্য করবেন না। অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি; তার পিএস মুরাদ জানান, তিনি হোমনা ও তিতাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সভা ও র্যালিতে ব্যস্ত আছেন।



































