ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের লোকহর্ষক কর্মকাণ্ড

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • / 300

লরেন্স বিষ্ণোই। ভারতীয় এই গ্যাংস্টার বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার হুমকি এবং পাঞ্জাবি সংগীত শিল্পী সিধু মুসে ওয়ালাকে হত্যার পরিকল্পনার জন্য অধিক পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ দুই ডজন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শুধু তাই না; তার গ্যাং ভারতের ৫ রাজ্য জুড়ে ৭০০ শুটারের সাথে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভারতীয় এই গ্যাংস্টারের জীবনের গল্প হলিউডের যে কোনো ক্রাইম থ্রিলারকে হার মানায়। কিন্তু কীভাবে একজন সাধারণ যুবক ভারতীয় অপরাধ জগতের শীর্ষে পৌঁছাল?

 

লরেন্স বিষ্ণোই ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। তার বাবা হরিয়ানা পুলিশের একজন কনস্টেবল ছিলেন। ২০১১ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস কাউন্সিলে যোগদান করেন, আর সেখানে তিনি গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের সান্নিধ্য পান।

 

তার বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে হত্যার চেষ্টা, অনুপ্রবেশ, হামলা এবং ডাকাতির জন্য একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এই সমস্ত মামলা ছাত্র রাজনীতিতে তার জড়িত থাকার সাথে সম্পর্কিত। চণ্ডীগড়ে তার বিরুদ্ধে নথিভুক্ত সাতটি এফআইআর-এর মধ্যে চারটিতে সে খালাস পায় এবং তিনটি মামলা এখনও বিচারাধীন।

 

কারাগারে থাকাকালীন সে কারাগারে অপরাধীদের সাথে জোট বেঁধেছিল। মুক্তি পাওয়ার পর সে অসৎ ব্যবসায়ী ও অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে দেখা করে। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় তার গ্যাং আকারে বৃদ্ধি পায়।

 

সে ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর মুক্তসরের সরকারি কলেজের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ও লুধিয়ানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাকে প্রায়ই আত্মগোপনে যেতে হতো।

 

২০১৩ সালের পর সে মদের ব্যবসায় নামে। সে তার দলে খুনিদেরও আশ্রয় দিত। ২০১৪ সালে রাজস্থানের পুলিশের সাথে তার একটি সশস্ত্র এনকাউন্টার হয়েছিল, যার পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

 

এছাড়া সে গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া জাসবিন্দর সিং ওরফে রকির সাথে বন্ধুত্ব করেছিল। রকির অধীনে সে রাজস্থানের ভরতপুরে সক্রিয় ছিল। ২০১৬ সালে রকিকে হত্যা করে জয়পাল ভুল্লার এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে জয়পালও গুলিবিদ্ধ হয়।

 

অভিযোগ করা হয় জেল কর্মীদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে লরেন্স বিষ্ণোই ভরতপুর কারাগারে থাকাকালীন তার সিন্ডিকেট পরিচালনা করতে থাকে। ২০২১ সালে এমসিওসিএ’র অধীনে নথিভুক্ত একটি মামলার বিষয়ে তাকে দিল্লির তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে বিষ্ণোই জেলের বাইরে তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ করতে ভয়েস ওভার আইপি কল ব্যবহার করেন।

 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম প্রথম আলোচনায় আসে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেয়ার মাধ্যমে। বিষ্ণোইয়ের দাবি ছিল, সালমান খান ১৯৯৮ সালে কালো হরিণ শিকার করেছিলেন, যা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পবিত্র প্রাণী। এই ঘটনার পরই লরেন্সের গ্যাং জনসাধারণের কাছে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সালমান খানকে হত্যার জন্য লরেন্স বিষ্ণোই তার গ্যাং সদস্যদের বিশেষ মিশনও দিয়েছিল। লরেন্স বিষ্ণোই শুধুমাত্র সালমান খানকেই নয়, আরও অনেক ব্যক্তিকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ভারতজুড়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে।

 

অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে তার গ্যাং একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যদিও সে নিজে বারবার জেলে ঢোকে এবং বেরিয়ে আসে, কিন্তু জেলের ভেতর থেকেও সে তার গ্যাং পরিচালনা করে চলেছিল।

 

লরেন্স বিষ্ণোই তার গ্যাং চালাতে একাধিক সহযোগী তৈরি করে। তার প্রধান সহযোগী ছিল গোল্ডি ব্রার, যিনি লরেন্সের গ্যাংয়ের বড় একটি অংশ পরিচালনা করতেন। ব্রার প্রায়ই লরেন্সের পক্ষে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

 

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিষ্ণোই অভিনেতা-গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাড়িতে শুটিংয়ের দায় স্বীকার করেন। সালমান খানের সাথে তার কথিত যোগসূত্রের কারণে তার বাড়িতে গুলি করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও গ্রেওয়াল সালমান খানের সাথে তার বন্ধুত্বের কথা অস্বীকার করেছেন।

 

সবশেষ সালমান খানের সাথে সম্পর্কের কারণে গত ১২ অক্টোবর বিষ্ণোই গ্যাং বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার পিছনে রয়েছে বলে দাবি করে। এ ঘটনার পর আবারো আলোচনায় আসে বিষ্ণোই গ্যাং।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বহুবার চেষ্টা করেও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারেনি। তাকে গ্রেফতার করা হলেও, জেলের ভেতর থেকেই সে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বারবার অভিযানে নেমেছে, কিন্তু বিষ্ণোই গ্যাং এতটাই শক্তিশালী যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাহিনী যেন হলিউড সিনেমার কোনো ভয়ঙ্কর গ্যাংস্টারের গল্প। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সেলিব্রিটিদের ওপর হুমকি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী সংস্থার সাথে সংযোগ তার জীবনকে রহস্যময় ও ভয়াবহ করে তুলেছে। তার জীবনের এই প্রতিটি অধ্যায় হলিউডের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর থ্রিলার মুভিকেও হার মানাতে পারে।

 

এই গ্যাংস্টারের জীবনের লোকহর্ষক গল্প নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার ফক্স ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস। ‘লরেন্স-আ গ্যাংস্টার স্টোরি’ নামের এই সিরিজের জন্য ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।

 

এই সিরিজে লরেন্সের যাবতীয় কুকীর্তি তুলে ধরা হবে। লরেন্স কীভাবে সে এমন ভয়ানক গ্যাংস্টারে পরিণত হল, সেই গল্পই বলবে এই সিরিজ। দেশে-বিদেশে কীভাবে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ছড়িয়ে রয়েছে, কীভাবে বিষ্ণোই গ্যাং অপারেশন চালায়, সেসব বিষয় দেখানো হবে এতে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের লোকহর্ষক কর্মকাণ্ড

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

লরেন্স বিষ্ণোই। ভারতীয় এই গ্যাংস্টার বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার হুমকি এবং পাঞ্জাবি সংগীত শিল্পী সিধু মুসে ওয়ালাকে হত্যার পরিকল্পনার জন্য অধিক পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ দুই ডজন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শুধু তাই না; তার গ্যাং ভারতের ৫ রাজ্য জুড়ে ৭০০ শুটারের সাথে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভারতীয় এই গ্যাংস্টারের জীবনের গল্প হলিউডের যে কোনো ক্রাইম থ্রিলারকে হার মানায়। কিন্তু কীভাবে একজন সাধারণ যুবক ভারতীয় অপরাধ জগতের শীর্ষে পৌঁছাল?

 

লরেন্স বিষ্ণোই ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। তার বাবা হরিয়ানা পুলিশের একজন কনস্টেবল ছিলেন। ২০১১ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস কাউন্সিলে যোগদান করেন, আর সেখানে তিনি গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের সান্নিধ্য পান।

 

তার বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে হত্যার চেষ্টা, অনুপ্রবেশ, হামলা এবং ডাকাতির জন্য একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এই সমস্ত মামলা ছাত্র রাজনীতিতে তার জড়িত থাকার সাথে সম্পর্কিত। চণ্ডীগড়ে তার বিরুদ্ধে নথিভুক্ত সাতটি এফআইআর-এর মধ্যে চারটিতে সে খালাস পায় এবং তিনটি মামলা এখনও বিচারাধীন।

 

কারাগারে থাকাকালীন সে কারাগারে অপরাধীদের সাথে জোট বেঁধেছিল। মুক্তি পাওয়ার পর সে অসৎ ব্যবসায়ী ও অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে দেখা করে। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় তার গ্যাং আকারে বৃদ্ধি পায়।

 

সে ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর মুক্তসরের সরকারি কলেজের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ও লুধিয়ানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাকে প্রায়ই আত্মগোপনে যেতে হতো।

 

২০১৩ সালের পর সে মদের ব্যবসায় নামে। সে তার দলে খুনিদেরও আশ্রয় দিত। ২০১৪ সালে রাজস্থানের পুলিশের সাথে তার একটি সশস্ত্র এনকাউন্টার হয়েছিল, যার পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

 

এছাড়া সে গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া জাসবিন্দর সিং ওরফে রকির সাথে বন্ধুত্ব করেছিল। রকির অধীনে সে রাজস্থানের ভরতপুরে সক্রিয় ছিল। ২০১৬ সালে রকিকে হত্যা করে জয়পাল ভুল্লার এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে জয়পালও গুলিবিদ্ধ হয়।

 

অভিযোগ করা হয় জেল কর্মীদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে লরেন্স বিষ্ণোই ভরতপুর কারাগারে থাকাকালীন তার সিন্ডিকেট পরিচালনা করতে থাকে। ২০২১ সালে এমসিওসিএ’র অধীনে নথিভুক্ত একটি মামলার বিষয়ে তাকে দিল্লির তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে বিষ্ণোই জেলের বাইরে তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ করতে ভয়েস ওভার আইপি কল ব্যবহার করেন।

 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম প্রথম আলোচনায় আসে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেয়ার মাধ্যমে। বিষ্ণোইয়ের দাবি ছিল, সালমান খান ১৯৯৮ সালে কালো হরিণ শিকার করেছিলেন, যা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পবিত্র প্রাণী। এই ঘটনার পরই লরেন্সের গ্যাং জনসাধারণের কাছে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সালমান খানকে হত্যার জন্য লরেন্স বিষ্ণোই তার গ্যাং সদস্যদের বিশেষ মিশনও দিয়েছিল। লরেন্স বিষ্ণোই শুধুমাত্র সালমান খানকেই নয়, আরও অনেক ব্যক্তিকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ভারতজুড়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে।

 

অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে তার গ্যাং একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যদিও সে নিজে বারবার জেলে ঢোকে এবং বেরিয়ে আসে, কিন্তু জেলের ভেতর থেকেও সে তার গ্যাং পরিচালনা করে চলেছিল।

 

লরেন্স বিষ্ণোই তার গ্যাং চালাতে একাধিক সহযোগী তৈরি করে। তার প্রধান সহযোগী ছিল গোল্ডি ব্রার, যিনি লরেন্সের গ্যাংয়ের বড় একটি অংশ পরিচালনা করতেন। ব্রার প্রায়ই লরেন্সের পক্ষে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

 

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিষ্ণোই অভিনেতা-গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাড়িতে শুটিংয়ের দায় স্বীকার করেন। সালমান খানের সাথে তার কথিত যোগসূত্রের কারণে তার বাড়িতে গুলি করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও গ্রেওয়াল সালমান খানের সাথে তার বন্ধুত্বের কথা অস্বীকার করেছেন।

 

সবশেষ সালমান খানের সাথে সম্পর্কের কারণে গত ১২ অক্টোবর বিষ্ণোই গ্যাং বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার পিছনে রয়েছে বলে দাবি করে। এ ঘটনার পর আবারো আলোচনায় আসে বিষ্ণোই গ্যাং।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বহুবার চেষ্টা করেও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারেনি। তাকে গ্রেফতার করা হলেও, জেলের ভেতর থেকেই সে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বারবার অভিযানে নেমেছে, কিন্তু বিষ্ণোই গ্যাং এতটাই শক্তিশালী যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাহিনী যেন হলিউড সিনেমার কোনো ভয়ঙ্কর গ্যাংস্টারের গল্প। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সেলিব্রিটিদের ওপর হুমকি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী সংস্থার সাথে সংযোগ তার জীবনকে রহস্যময় ও ভয়াবহ করে তুলেছে। তার জীবনের এই প্রতিটি অধ্যায় হলিউডের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর থ্রিলার মুভিকেও হার মানাতে পারে।

 

এই গ্যাংস্টারের জীবনের লোকহর্ষক গল্প নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার ফক্স ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস। ‘লরেন্স-আ গ্যাংস্টার স্টোরি’ নামের এই সিরিজের জন্য ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।

 

এই সিরিজে লরেন্সের যাবতীয় কুকীর্তি তুলে ধরা হবে। লরেন্স কীভাবে সে এমন ভয়ানক গ্যাংস্টারে পরিণত হল, সেই গল্পই বলবে এই সিরিজ। দেশে-বিদেশে কীভাবে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ছড়িয়ে রয়েছে, কীভাবে বিষ্ণোই গ্যাং অপারেশন চালায়, সেসব বিষয় দেখানো হবে এতে।