কিশোরগঞ্জে লুডু খেলতে গিয়ে ধরা খেল খুনি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 98
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত শিশু নুসরাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমগীর মিয়াকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টান কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-১৪ সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আলমগীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অবশেষে রাত ১টার দিকে মোবাইলে লুডু খেলার সময় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে আসামিকে ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিশু নুসরাত হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আলমগীর মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টান কৃষ্ণনগর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। মামলার অপর আসামি হলো নুসরাতের মা আয়েশা খাতুন (২৫)। তাকে ঘটনার দিন, গত ৭ জুন রাতে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার চন্দ্রগুনা গ্রামের মেয়ে আয়েশা খাতুনের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নিলক্ষীয়া গ্রামের ওমর ফারুকের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান জন্ম নেয়— তিন বছরের ছেলে আলিফ ও দেড় বছরের মেয়ে নুসরাত।
তবে ওমর ফারুকের সহকর্মী আলমগীরের সঙ্গে আয়েশার ঘনিষ্ঠতা থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরকীয়ার কারণে দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হলে আয়েশা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আলমগীরকে নিয়ে ভৈরবের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন।
গত ৭ জুন রাতে হঠাৎ চিৎকার করে প্রতিবেশীদের কাছে দেড় বছরের মেয়ে নুসরাতের মৃত্যুর খবর জানান আয়েশা খাতুন। ঘটনার অস্বাভাবিকতা দেখে বাড়ির মালিক শাহীন কবীর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন নিহতের দাদা আবুল কালাম বাদী হয়ে আলমগীর ও আয়েশাকে আসামি করে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই আলমগীর পলাতক ছিলেন। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে টান কৃষ্ণনগর এলাকায় তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিনের পলাতক জীবনের পর অবশেষে প্রধান আসামির গ্রেফতারে মামলার তদন্তে গতি আসবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

































