ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কার্গো ভিলেজে আগুন : ২২ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপে ধোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 142

কার্গো ভিলেজে আগুন : ২২ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপে ধোঁয়া

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ২২ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টার পর এই চিত্র দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এখনও ধ্বংসস্তূপে পানি ছিটাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করা যায়নি। এজন্য ধোঁয়া উঠছে। ২২টি ইউনিট এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে এবং আগুন যেন বাড়ে না সেজন্য পানি ছিটানো অব্যাহত রয়েছে।

সকাল থেকেই ধ্বংসস্তূপে ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনতা আগুনের ক্ষতি দেখতে আসছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রেজাউল করিম রনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার সাধারণত আমদানি বন্ধ থাকে, তবে রপ্তানি সবসময় চালু থাকে। শনিবার সকালে তিনি পণ্য এক্সপোর্ট করতে আসেন, কিন্তু আগুনের কারণে মালামাল নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, আগুনের প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক শিল্পেও পড়বে, কারণ এখানে অধিকাংশ মালামাল সেই খাতের ছিল। আগুনে হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার দুপুর সোয়া ২টায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট সহ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজটি পোস্ট অফিস ও বিমান হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং আট নম্বর গেটের কাছে। আগুন মূলত আমদানির কার্গো কমপ্লেক্সে লেগেছে, যেখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়।

ভয়াবহ আগুনের কারণে বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ঢাকার পরিবর্তে সমস্ত বিমান চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় আটটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে, তিনটি সিলেটে এবং দুটি চেন্নাই ও দিল্লি থেকে কলকাতায় অবতরণ করে। রাত ৯টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামা পুনরায় শুরু হয়। ছয় ঘণ্টায় ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করে, ফলে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।

আগুন নেভাতে কাজের সময় ফায়ার ফাইটার, সিভিল অ্যাভিয়েশন ও আনসারসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন আনসার সদস্য এবং সবাইকে সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আগুন লাগার ভবনে তৈরি পোশাক কারখানার জন্য আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ছিল। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা দীর্ঘ সময় নিয়েছে। কার্গো ভিলেজ কখন পুনরায় চালু হবে তা এখনও বলা যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কার্গো ভিলেজে আগুন : ২২ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপে ধোঁয়া

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ২২ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টার পর এই চিত্র দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এখনও ধ্বংসস্তূপে পানি ছিটাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করা যায়নি। এজন্য ধোঁয়া উঠছে। ২২টি ইউনিট এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে এবং আগুন যেন বাড়ে না সেজন্য পানি ছিটানো অব্যাহত রয়েছে।

সকাল থেকেই ধ্বংসস্তূপে ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনতা আগুনের ক্ষতি দেখতে আসছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রেজাউল করিম রনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার সাধারণত আমদানি বন্ধ থাকে, তবে রপ্তানি সবসময় চালু থাকে। শনিবার সকালে তিনি পণ্য এক্সপোর্ট করতে আসেন, কিন্তু আগুনের কারণে মালামাল নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, আগুনের প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক শিল্পেও পড়বে, কারণ এখানে অধিকাংশ মালামাল সেই খাতের ছিল। আগুনে হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার দুপুর সোয়া ২টায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট সহ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজটি পোস্ট অফিস ও বিমান হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং আট নম্বর গেটের কাছে। আগুন মূলত আমদানির কার্গো কমপ্লেক্সে লেগেছে, যেখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়।

ভয়াবহ আগুনের কারণে বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ঢাকার পরিবর্তে সমস্ত বিমান চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় আটটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে, তিনটি সিলেটে এবং দুটি চেন্নাই ও দিল্লি থেকে কলকাতায় অবতরণ করে। রাত ৯টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামা পুনরায় শুরু হয়। ছয় ঘণ্টায় ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করে, ফলে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।

আগুন নেভাতে কাজের সময় ফায়ার ফাইটার, সিভিল অ্যাভিয়েশন ও আনসারসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন আনসার সদস্য এবং সবাইকে সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আগুন লাগার ভবনে তৈরি পোশাক কারখানার জন্য আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ছিল। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা দীর্ঘ সময় নিয়েছে। কার্গো ভিলেজ কখন পুনরায় চালু হবে তা এখনও বলা যায়নি।