ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাগজে নিষিদ্ধ, বাস্তবে রাজনীতি চলছে ববিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ববি (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 149

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধের এক বছর হলেও বাস্তবে রাজনীতি বন্ধ হয়নি ক্যাম্পাসে। অবাধে ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠন ও সকল পেশাজীবী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো; নিষিদ্ধ ঘোষণার বছর না পেরোতেই ক্যাম্পাসে ফের রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে দেদারসে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

পেশাজীবি সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে কিছুদিন আগে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ড্রাইভার মামুন শেখ ও সদস্যসচিব সিকিউরিটি গার্ড জাকির মৃধা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ২৯ জুলাই ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদি ছাত্রদল তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করেছে। কর্মী সম্মেলনের সময় অডিটোরিয়ামের কয়েকটি চেয়ারও ভেঙেছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কর্মী সম্মেলনের জন্য জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে আবেদন করেছিলেন ছাত্রদল নেতা মোশারফ হোসেন। প্রশাসন সাড়া না দেওয়ায় তারা জোরপূর্বক কীর্তনখোলা অডিটোরিয়াম ব্যবহার করে সম্মেলন করেছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে নতুন কমিটি গঠনের জন্য তারা এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।

ছাত্রসংগঠনটি ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের কলম, ফুল এবং বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা দাবি সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা, বিজয় দিবসের র‍্যালি ও মিছিল, বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরকেও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কার্যক্রম করতে দেখা গেছে। ৩৬শে জুলাই উপলক্ষে শিবির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে মিল রেখে সাইকেল র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ, মিলাদ মাহফিল, ইদুল আজহায় শিক্ষার্থীদের ভোজসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

গত ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে গণভোটের আয়োজন করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে একাধিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে। নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গতবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ক্যম্পাসের এই এলাকায় ছাত্ররাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বছর না ঘুরতেই ছাত্রসংগঠনগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ বিল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু রাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে ছাত্রসংগঠনগুলো কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে? প্রশাসনের নিরব ভূমিকার সমালোচনা করে প্রশাসনকে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও ক্যাম্পাসে এখনো রাজনীতির চর্চা অবাধে চলছে। ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রকাউন্সিলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে, যা ১১ আগস্ট ২০২৪ এর ঘোষণার পরিপন্থী। দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পদপ্রত্যাশী রাজু রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ চালু হোক এ বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোন সাড়া মেলেনি। ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে, প্রশাসন তা দেখেও নিরব ভান করছে। আমরা চাই, প্রশাসন আলোচনা করে রাজনীতি ফিরিয়ে আনুক, লুকোচুরি নয়।

ববি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাবেক আহ্বায়ক সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, রাজনীতি করতে চাওয়া এবং না চাওয়ার উভয়েরই সুযোগ দেওয়া উচিত। কেউ যেন অন্যকে নিপীড়ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে অগণতান্ত্রিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা ঠিক হয়নি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চা করবে। শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের অপরাজনীতির শিকার হয়েছে। রাজনীতি থাকলে সুস্থ ধারার মেধা বিকাশ ও গবেষণার জন্য সহায়ক হবে।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান রেখে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চা করছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, রাজনীতি বন্ধ থাকায় কেউ যদি অংশ নেয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিধিমতো ব্যবস্থা নিতে পারবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রম চললেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্নে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কাগজে নিষিদ্ধ, বাস্তবে রাজনীতি চলছে ববিতে

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধের এক বছর হলেও বাস্তবে রাজনীতি বন্ধ হয়নি ক্যাম্পাসে। অবাধে ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠন ও সকল পেশাজীবী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো; নিষিদ্ধ ঘোষণার বছর না পেরোতেই ক্যাম্পাসে ফের রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে দেদারসে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

পেশাজীবি সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে কিছুদিন আগে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ড্রাইভার মামুন শেখ ও সদস্যসচিব সিকিউরিটি গার্ড জাকির মৃধা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ২৯ জুলাই ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদি ছাত্রদল তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করেছে। কর্মী সম্মেলনের সময় অডিটোরিয়ামের কয়েকটি চেয়ারও ভেঙেছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কর্মী সম্মেলনের জন্য জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে আবেদন করেছিলেন ছাত্রদল নেতা মোশারফ হোসেন। প্রশাসন সাড়া না দেওয়ায় তারা জোরপূর্বক কীর্তনখোলা অডিটোরিয়াম ব্যবহার করে সম্মেলন করেছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে নতুন কমিটি গঠনের জন্য তারা এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।

ছাত্রসংগঠনটি ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের কলম, ফুল এবং বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা দাবি সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা, বিজয় দিবসের র‍্যালি ও মিছিল, বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরকেও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কার্যক্রম করতে দেখা গেছে। ৩৬শে জুলাই উপলক্ষে শিবির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে মিল রেখে সাইকেল র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ, মিলাদ মাহফিল, ইদুল আজহায় শিক্ষার্থীদের ভোজসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

গত ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে গণভোটের আয়োজন করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে একাধিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে। নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গতবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ক্যম্পাসের এই এলাকায় ছাত্ররাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বছর না ঘুরতেই ছাত্রসংগঠনগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ বিল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু রাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে ছাত্রসংগঠনগুলো কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে? প্রশাসনের নিরব ভূমিকার সমালোচনা করে প্রশাসনকে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও ক্যাম্পাসে এখনো রাজনীতির চর্চা অবাধে চলছে। ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রকাউন্সিলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে, যা ১১ আগস্ট ২০২৪ এর ঘোষণার পরিপন্থী। দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পদপ্রত্যাশী রাজু রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ চালু হোক এ বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোন সাড়া মেলেনি। ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে, প্রশাসন তা দেখেও নিরব ভান করছে। আমরা চাই, প্রশাসন আলোচনা করে রাজনীতি ফিরিয়ে আনুক, লুকোচুরি নয়।

ববি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাবেক আহ্বায়ক সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, রাজনীতি করতে চাওয়া এবং না চাওয়ার উভয়েরই সুযোগ দেওয়া উচিত। কেউ যেন অন্যকে নিপীড়ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে অগণতান্ত্রিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা ঠিক হয়নি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চা করবে। শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের অপরাজনীতির শিকার হয়েছে। রাজনীতি থাকলে সুস্থ ধারার মেধা বিকাশ ও গবেষণার জন্য সহায়ক হবে।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান রেখে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চা করছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, রাজনীতি বন্ধ থাকায় কেউ যদি অংশ নেয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিধিমতো ব্যবস্থা নিতে পারবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রম চললেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্নে মন্তব্য করতে রাজি হননি।