কক্সবাজারে তিন দিনের রোহিঙ্গা সম্মেলন শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- / 127
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ও কার্যকর সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে রোববার (২৪ আগস্ট) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এটি আগামী মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শেষ হবে। ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এই সম্মেলন আয়োজন করেছে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয় ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সামনের ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের আগে এ সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে। কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বৈশ্বিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রানা ফ্লাওয়ার্স, মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত মেকানিজমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান, মানবাধিকার বিশেষ দূত টমাস এইচ. অ্যান্ড্রুজ এবং শরণার্থী সংস্থার সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজু সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনটি পাঁচটি মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে; মানবিক সহায়তা ও তহবিল সমস্যা, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা গড়ে তোলা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধানের কৌশল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্মেলনে রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও যুবকদের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের সরাসরি মতামত ও সমস্যা জানতে পারে।
আগামী মঙ্গলবার অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন, যাতে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের গণহারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার আট বছর পূর্তির পর এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে শুরু করেছে এবং মিয়ানমারে সহিংসতা বেড়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনটি ক্ষেত্রে কাজ করছে—বিদেশি সহায়তা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট দৃশ্যমান রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ সুগম করা।
































